বাংলা একাডেমিতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে শেষ শ্রদ্ধা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৬-০৭-২০২৬ ০৩:২৩:৪৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-০৭-২০২৬ ০৩:২৩:৪৭ অপরাহ্ন
ফোকাস বাংলা নিউজ
বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্যসমালোচক ও সমাজবিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলা একাডেমিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তার মরদেহ আনা হলে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, লেখক, সাহিত্যিক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বাংলা একাডেমি চত্বরে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় বাংলা একাডেমি, জাতীয় কবিতা পরিষদ এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানান কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, গবেষক সাইমন জাকারিয়া, কবি সরকার আমিনসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন এক অনন্য প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী। তিনি আমৃত্যু অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, সমাজসচেতন এবং স্বাধীনতাকামী দেশপ্রেমিক ছিলেন। দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় তার অবদান অবিস্মরণীয়।
নিজের শিক্ষক হিসেবে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি তার ছাত্র ছিলাম। পরে মন্ত্রী হওয়ার পরও সুযোগ পেলেই তার কাছে যেতাম। তার কাছে বসলেই মনে হতো, যেন এক শান্তিময় বটবৃক্ষের ছায়ায় বসে আছি। তিনি সবসময় দেশ, মানুষ এবং শোষিত মানুষের সংগ্রামের কথা বলতেন।
২০১৫ সালে উগ্রপন্থীদের হামলায় নিহত অধ্যাপক ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দীপনকে হত্যার পরও তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। এমনকি প্রচলিত অর্থে রাষ্ট্রীয় বিচারও চাননি। তিনি বলেছিলেন, মানুষের দেশের জন্য আমি তাকে উৎসর্গ করে দিলাম। এমন উদার ও আলোকিত মানুষ খুবই বিরল।
এ সময় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতি ও আদর্শ সংরক্ষণে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে জানান সাংস্কৃতিক মন্ত্রী।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাবন্ধিক, চিন্তক ও সাহিত্যসমালোচক। বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি প্রায় নিয়মিত একাডেমিতে আসতেন। আনুষ্ঠানিক কাজ না থাকলেও এখানে বসে লিখতেন, আলোচনা করতেন এবং একাডেমির বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ দিতেন।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রথম জানাজা শেষে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে।
দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স