ঢাকা , রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ , ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​বিল বাকি ২৬ মাসের, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন স্কুলে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৫-০৭-২০২৬ ০৬:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-০৭-২০২৬ ০৬:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন
​বিল বাকি ২৬ মাসের, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন স্কুলে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা ​ছবি: সংগৃহীত
বিল বাকি ২৬ মাসের, পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার টাকা। আর এই বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

ঘটনা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। গত ২৩ জুন স্কুলটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।  এরপর থেকে অপরিসীম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। বাইরে তীব্র রোদ, ভেতরে গুমোট গরম। মাথার ওপর ফ্যান থাকলেও সেগুলো ঘুরছে না। গরমে অস্থির শিক্ষার্থীরা। অনেকেই খাতাপত্র দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছে। বিদ্যালয়ের ভবনের ভেতরের টয়লেট পানির অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাইরে থাকা একটি টয়লেট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছেন। সেখানে বাইরে থেকে পানি এনে রাখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে নলকূপ না থাকায় শিক্ষার্থীদের কেউ বাড়ি থেকে পানির বোতল নিয়ে আসছে, আবার কেউ বাইরে থেকে আনা পানির ওপর নির্ভর করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার টাকা। বিল পরিশোধ না হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

কথা হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদাত হোসেন সাগর ও আয়েশা মনির সঙ্গে। কোমলমতি এই শিশুরা হাসফাঁস করতে করতে বলে, ফ্যান চলে না, খুব গরম লাগে। ক্লাস করতে কষ্ট হয়। আমরা চাই দ্রুত কারেন্ট আসুক।

অভিভাবকরা বলছেন, গরমের কারণে অনেক শিশু স্কুলে আসতে চায় না। কারেন্ট নেই, ফ্যান নেই, পানি নেই। এ অবস্থায় বাচ্চাদের ক্লাস করা খুব কষ্টকর।

এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সরকারি অফিসে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকে। তখন কারো টনক নড়ে না। আর মাত্র ২৬ মাসের বকেয়া বিলের জন্য স্কুলের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে কোমলমতি শিশুদের অবর্ণণীয় দুর্দশার মধ্যে ফেলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইয়েমা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে সমস্যায় পড়েছি। বাইরে থেকে পানি এনে শিক্ষার্থীদের পান করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু এই গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া ক্লাস নেওয়া খুবই কষ্টকর।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৬ হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। স্কুল ছুটির পর আমাদের অগোচরে লাইন কেটে দেওয়া হয়। আমি চেষ্টা করছি দ্রুত বিল পরিশোধ করে সংযোগ পুনরায় চালু করার। 

ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ‌্যুৎ সমিতির অধীন পঞ্চগড় জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাজহারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে জেনে পরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। 

তবে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন শোনালেন আশার বাণী। তিনি বলেন, ২৬ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে বিদ্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ