ঢাকা , রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ , ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চাঁদপুরের জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ০১:৩২:৫৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ০১:৩২:৫৩ অপরাহ্ন
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চাঁদপুরের জনজীবন ফাইল ছবি
চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে জেলা শহরে তুলনামূলক স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাইমচর, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা, কোথাও তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রাতেও একই চিত্র থাকায় অসহনীয় গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক পরিবার রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না। ছোট শিল্প ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে কাজ থেমে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের দাসদী এলাকার ব্যবসায়ী মো. ওহাব খান বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ডাক্তার দেখাতে গিয়ে সময়মতো পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিনই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

একই উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের কালিভাংতি এলাকার বাসিন্দা দুলাল শেখ বলেন, দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আশিকাটি ইউনিয়নের পাইকাস্তা এলাকার বাসিন্দা মো. নান্নু মাল বলেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি। তারপরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান প্রয়োজন।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, জেলার আট উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৮ লাখ গ্রাহকের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে তীব্র গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে জেলায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, জ্বালানি সংকট এবং দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

অন্যদিকে চাঁদপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ভূঞা বলেন, চাঁদপুর শহরে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৩১ মেগাওয়াট। গত সপ্তাহে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকলেও চলতি সপ্তাহে সেই ঘাটতি নেই।
 
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ