মালচিং পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে শিবচরের কৃষি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-০৭-২০২৬ ১২:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৭-২০২৬ ১২:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কম খরচে, কম সময়ে এবং তুলনামূলক বেশি ফলন পাওয়ায় কৃষকরা সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে ঝুঁকছেন এ প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের দিকে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
সরেজমিনে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা জমিতে সারি সারি বেড তৈরি করে তা বিশেষ ধরনের মালচিং পেপার (প্লাস্টিক শিট) দিয়ে ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে সবজির বীজ বা চারা রোপণ করছেন। এই পদ্ধতিতে বর্তমানে শসা, করলা, মরিচ, লাউ, টমেটো, ঢ্যাঁড়শ, ধুন্দলসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে।
উপজেলার কৃষি কাজে সংশ্লিষ্টরা জানান, মালচিং মূলত চীন ও জাপানে বহুল ব্যবহৃত একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। এ পদ্ধতিতে জমির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, আগাছা জন্মায় না, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়। ফলে সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম হয় এবং উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
চাষিরা জানান, মালচিং পদ্ধতিতে প্রথমবার বেড তৈরিতে কিছুটা অতিরিক্ত ব্যয় হলেও পরবর্তীতে একই বেডে তিন থেকে চার ধাপে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এছাড়া প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই ফসল বাজারজাত করা যায়, যা কৃষকদের অতিরিক্ত লাভের সুযোগ তৈরি করছে।
শিবচর উপজেলার কাদিরপুর এলাকার সফল কৃষক শাহিন মিয়া বলেন, ইউটিউবে মালচিং পদ্ধতি দেখে প্রথমে মাত্র এক বিঘা জমিতে শসা চাষ শুরু করি। প্রথমবারেই প্রায় দেড়শ মণ শসা বিক্রি করেছি। ভালো লাভ হওয়ায়, বর্তমানে ২০ বিঘা জমিতে শসা, করলা, মরিচ ও লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করছি।
কুতুবপুর ইউনিয়নের কৃষক শওকত গাছি বলেন, আমি এ পদ্ধতি প্রথমে শখের বশে শুরু করি শসা ও মরিচ চাষ দিয়ে। পরিচর্যা সহজ হওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে এবং লাভও বেশি হচ্ছে। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে অনেকটা সফল হয়েছি, আমার সফলতা দেখে এলাকার অনেক শিক্ষিত যুবক মালচিং পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রাজা মিয়া বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় কীটনাশক খুব কম ব্যবহার করতে হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিবচরে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে মালচিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সবজি চাষ হচ্ছে। মরিচ, করলা ও শসা চাষে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেন, মালচিং প্রযুক্তি কৃষিতে একটি যুগোপযোগী ও লাভজনক পদ্ধতি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মালচিং পদ্ধতির সম্প্রসারণ হলে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স