আইনি জটিলতায় আটকে থাকা ৩০৪ গাড়ি নিয়ে বিপাকে বন্দর-কাস্টমস
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৪-০৭-২০২৬ ১২:১০:৩৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৭-২০২৬ ১২:১০:৩৬ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
শত কোটি টাকা মূল্যের ৩০৪টি গাড়ি নিয়ে বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস। এর মধ্যে ১০৮টি গাড়ি সম্পূর্ণ চলাচল অনুপযোগী বলে প্রতিবেদন দিয়েছে বিআরটিএ। তবে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় এসব গাড়ি স্ক্র্যাপ করতে পারছে না কাস্টমস হাউজ। বছরের পর বছর অলস পড়ে থাকায় বাকি গাড়িগুলোও ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক কারশেডে গিয়ে দেখা যায়, ধুলায় ঢেকে থাকা ভাঙাচোরা গাড়িগুলো যেন একটি পরিত্যক্ত ডাম্পিং স্টেশনের চিত্র। অনেক গাড়ির চাকা ফেটে মেঝেতে বসে গেছে। ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে পড়েছে। পুরো কারশেডজুড়েই রয়েছে চলাচলের অযোগ্য এসব গাড়ি। ১ হাজার ২৫০টি গাড়ি ধারণক্ষমতার চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি কারশেডে বর্তমানে ৬০৩টি গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০৪টিই চলাচলের অনুপযোগী।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছরের পুরোনো গাড়িও এখানে রয়েছে। এসব গাড়ি পড়ে থাকায় নতুন আমদানি হওয়া গাড়িগুলো অনেক সময় খোলা আকাশের নিচে রাখতে হয়। অথচ আধুনিক কারশেডে নতুন গাড়ি রাখা গেলে সেগুলোর যন্ত্রপাতিও ভালো থাকত।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর আগে বিআরটিএ ১৮২টি গাড়িকে চলাচলের অনুপযোগী ঘোষণা করে। এরপর এর মধ্যে ৭৪টি গাড়ি স্ক্র্যাপ হিসেবে কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হয়। তবে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন থাকায় বাকি ১০৮টি গাড়ি স্ক্র্যাপ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আরও ৮৭টি গাড়ি সম্পর্কিত রিট পিটিশনও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব চালানের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ বছর আগে আমদানি করা গাড়িও রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, নিলাম বা ধ্বংসের কার্যক্রম আটকে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো উচ্চ আদালতের নির্দেশনা। কোনো গাড়ি নিয়ে মামলা বা রিট বিচারাধীন থাকলে তা নিলাম বা ধ্বংস করা যায় না। তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী নিলাম বা ধ্বংসের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এসব গাড়ির প্রতিটির বাজারমূল্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে বন্দরে পড়ে থাকা গাড়িগুলোর মোট মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। নানা জটিলতায় গাড়িগুলো বন্দরে আটকে থাকলেও আমদানি মূল্য হিসেবে বিদেশে এর মধ্যেই চলে গেছে লাখ লাখ ডলার।
ব্যবসায়ীদের মতে, বন্দরে দীর্ঘদিন গাড়ি পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া ঠেকাতে গাড়ি আমদানির নীতি আরও সহজ করা প্রয়োজন। পিএইচপি অটোমোবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার পারভেজ বলেন, এ সমস্যার সমাধানে কয়েকটি পথ রয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়া যেতে পারে, যাতে ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্র্যাপ বা অন্যভাবে ব্যবহার করতে পারেন। অথবা কর্তৃপক্ষ নিজেরাই স্ক্র্যাপ করে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে পারে।
বিদেশ থেকে আমদানি করা গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় করার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড় না হলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেগুলো নিলামে বিক্রির জন্য বাই পেপারের মাধ্যমে কাস্টম হাউজের কাছে হস্তান্তর করে।
তবে বর্তমানে এই ৩০৪টি গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এক ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় কাস্টমস যেমন নিলামে বিক্রি করতে পারছে না, তেমনি আইনি জটিলতার কারণে ধ্বংসও করা যাচ্ছে না। ফলে বহুতল কারশেডে ভাঙাচোরা গাড়িগুলো জায়গা দখল করে থাকায় নতুন আমদানি হওয়া গাড়ি রাখতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স