পরিবারে ফিরেছে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ
ইনকিউবেটর পেয়ে স্বপ্ন পূরণ কলাপাড়ার ইমাম হোসেনের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-০৭-২০২৬ ০৫:৫৮:১৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-০৭-২০২৬ ০৫:৫৮:১৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
শ্রমজীবী ইমাম হোসেনের পরিবারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ ফিরে এসেছে। মানুষটির এগিয়ে চলার পথে মনোবল বেড়েছে। হাঁস-মুরগির খামার করছিলেন। প্রতিদিন হাঁসের দেয়া ডিম বিক্রি করতেন। ছোট্ট পরিসরে মা হাঁসের তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা ফোটাতেন। তাতে বছরের একটি হাঁস দিয়ে ৫-৬ বারের বেশি পারতেন না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
কীভাবে ব্যাপক পরিসরে হ্যাচারির মাধ্যমে বাচ্চা ফোটাবেন। বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করবেন। ২১টি বছরের ছোট্ট এই চাওয়া যেন তার পুর্ণ হলো এবছরে। এখন সামনে এগিয়ে চলার পথটি তার আরও মসৃন হলো। একটা ইনকিউবেটার তার এগিয়ে চলার পথের গতি যেন বাড়িয়ে দিল। স্বাবলম্বিতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন ইমাম হোসেন ও কোহিনুর দম্পতি। প্রতি মাসে গড়ে এখন তিন থেকে চারশ’ ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বিক্রি করছেন। বাড়ি থেকেই দৈনিক ৫০-৮০টি ডিম বিক্রি করছেন। এখন একটি হাঁসে বছরে নয় মাস ডিম দিতে পারছে। হাঁস-মুরগির খামারের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন করছেন। ফলদ গাছের ছোট্ট বাগান রয়েছে। রয়েছে পুকুরের মাছ।৪২ বছর বয়সী মানুষটির বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুমিরমারা গ্রামে। গ্রামের পড়শিও এখন এ মানুষটাকে অনুকরণ করছেন। দেখছেন তার অর্থীনৈতিক স্বচ্ছলতার পথচলা।
জানালেন, ২১ বছর আগে বিয়ে করেছেন। মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছেন। এরপরেই কৃষিকাজের পাশাপাশি ছোট্ট পরিসরে হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু পালন করতেন। গত চার বছর ধরে প্রথমে হাঁসের বাচ্চা কিনে বড় করে ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি হাঁস বিক্রি শুরু করেন। টানা দশ বছর ধরে ডিম বিক্রি করে আসছেন। আবার ডিম থেকে হাঁসের মাধ্যমে তা দিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করতেন। প্রায় ২৮দিন ধরে তাঁ দেয়ার পরে বাচ্চা পালনে সংযুক্ত থাকায় মা হাঁস গুলো টানা দেড় মাস ডিম দিতে পারত না। এনিয়ে দুর্ভাবনায় ছিলেন ইমাম হোসেন। সবশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশের মাধ্যমে ইনকিউবেটর মেশিনে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফোটানোর পদ্ধতি শেখেন। এরপরে ওই সংস্থার দেয়া একটি ইনকিউবেটর বিনামূল্যে পেয়েছেন। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ইমাম হোসেনের। এখন প্রতিমাসে গড়ে তিনি আড়াইশ’ থেকে ২৮০ টি বাচ্চা ফোটাতে পারেন। এজন্য আর মা হাঁস-মুরগির ডিম দেয়া বন্ধ হয় না। স্বাভাবিকভাবে ডিম দেয়ার ৭-১০দিনের মধ্যে আবার মা হাঁস-মুরগিতে ডিম দেয়। প্রতিদিন ডিম বিক্রির পাশাপাশি প্রত্যেক মাসে ২৫০-২৮০টি বাচ্চা ফোটাতে পারছেন। কখনো বাচ্চা বিক্রি করছেন। আবার বড় করে ডিমের জন্য প্রস্তুত করছেন।
জানালেন ইমাম হোসেন, এ পর্যন্ত চারবার হ্যাচারির মাধ্যমে তিনি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়েছেন। মুরগির বাচ্চা ফোটাতে ২১দিন, আর হাঁসের জন্য সময় লাগে ২৮দিন। মুরগির শতকরা ৮০ শতাংশ আর হাঁস শতকরা ৬৫-৭০ শতাংশ বাচ্চা ফোটে। বর্তমানে ডিম দেয়ার মতো ১৩০টি হাঁস ও শতাধিক মুরগির বাচ্চা রয়েছে। নিচের হ্যাচারিতে ডিম ফোটাতে পেরে এখন আর নিত্যদিনের আয় নিয়ে ভাবনায় পড়তে হয় না। মানুষটি তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমকেসহ তিন সন্তানকে নিয়ে আছেন স্বস্তিদায়ক পরিবেশে। সন্তান বড় মেয়ে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ছোট মেয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর ছোট্ট ছেলে ক্ওাছার ক্লাশ ওয়ানের শিক্ষার্থী। মানুষটির আর্থিক স্বাচ্ছন্দের কথা আশাপাশের মানুষের কাছেও অনেকটা গল্পের মতো। তবে বিদ্যুতের কিছুটা সমস্যার জন্য তার একটা সৌরবিদ্যুত সিস্টেম দরকার বলে জানালেন।
উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ পাখিমারা অফিসের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো.ইব্রাহিম খান জানান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় হীড বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত স্পেশাল প্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার)এর আওতায় স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে এই ইনকিউবেটর মেশিন সরবরাহ করা হয়। এতে স্থানীয়ভাবে হাস,মুরগির বাচ্চার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং খামারিদের আর্থিক সচ্ছলতা ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদেরকে প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/ এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স