বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় বসছে বগুড়া-নাটোরের ১৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-০৭-২০২৬ ১২:১২:০৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-০৭-২০২৬ ১২:১২:০৬ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
বিশেষ ব্যবস্থায় আগামীকাল শনিবার এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারবেন বগুড়া ও নাটোরের ১৮ জন শিক্ষার্থী। আজ শুক্রবারের মধ্যে তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড।
এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েও ফেরত আসতে হয়েছিল তাদের। কারণ, তাদের হাতে ছিল না প্রবেশপত্র। অথচ তারা ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত টাকা জমা দিয়েছিলেন নিজ নিজ কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফরম পূরণের টাকা নেওয়া হলেও তা যথাসময়ে বোর্ডে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি এবং প্রবেশপত্রও আসেনি। এই কারণে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তারা।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রথম দিনের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪৯৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ২১ শতাংশ। সেই তালিকায় যুক্ত হয় এই ১৮ শিক্ষার্থীর নামও।
১৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ জন এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
নাটোরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি বলেছেন, ‘অনলাইনে ফরম পূরণে সমস্যা হওয়ায় তিনি কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের কাছে যান। অমিত ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেন এবং ফরম পূরণের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন থেকে তার ফোন বন্ধ ছিল। পরে জানতে পারি, ফরমই পূরণ করা হয়নি।’
একই ঘটনার শিকার হয়েছেন এই কলেজের আরও সাত শিক্ষার্থী। তারা হলেন সবুজ আহম্মেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল, শিমুল, শাওন, সাব্বির ও তানভির হোসেন।
সূচির বাবা ইমামুল হক জানালেন, একজন মানুষের অবহেলা ও প্রতারণার কারণে তার মেয়ের উচ্চশিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেন তিনি।
বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার অভিযোগ করেন, প্রবেশপত্র চাইলে কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন বারবার সময়ক্ষেপণ করেন। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী হাসর মিয়া জানালেন, ফরম পূরণের সময় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন থেকেই অভিযুক্তের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান বললেন, ‘অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি।’
বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান মন্তব্য করেন, কলেজে ফরম পূরণ-সংক্রান্ত সব আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম রয়েছে। কোনো কর্মচারীর হাতে টাকা দেওয়ার বিধান নেই। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির এবং অফিস সহকারী অমিতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরীর ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরই বোর্ডে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে আজকের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হবে এবং শনিবার তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স