ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৯-০৬-২০২৬ ১১:৫৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৬-২০২৬ ১১:৫৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
বাড়ছে লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন ফাইল ছবি
তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চাঁদপুর জেলাজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার আটটি উপজেলাতেই বিদ্যুতের ঘাটতি থাকলেও সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিশু, বয়স্ক, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের তুলনায় হাইমচর, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ ও কচুয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থাকে স্বাভাবিক হিসেবে মানতে নারাজ ভুক্তভোগীরা।

জেলার হাইমচর উপজেলায় দিনের বেলায় সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বারবার বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন তারা।

উপজেলার বাসিন্দা বশির হোসাইন জানান, আমাদের এলাকায় এখন এমন অবস্থা হয়েছে বিদ্যুৎ যায় না, বিদ্যুৎ আসে। দিনে-রাতে ৮ থেকে ১০ বার, কখনো তারও বেশি বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার গেলে কখন আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

হাইমচর পল্লী বিদ্যুতের সাবজোনাল অফিসের এজিএম রোকসানা আক্তার জানান, হাইমচরে ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও আমরা তার অর্ধেক বা তারও কম পাচ্ছি। বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলায় গত এক মাস ধরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পৌর এলাকার তুলনায় ইউনিয়নগুলোতে সংকট আরও প্রকট।

শিক্ষার্থী পারভেজ রহমান জানান, ক্লাস চলাকালীন দুই-তিনবার বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ক্লাস করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাতে বাড়িতেও একই অবস্থা।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এম ডি ওয়াহিদুজ্জামান জানান, উপজেলায় ২৭ থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন কিন্তু আমরা পাচ্ছি প্রায় অর্ধেক। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেলে লোডশেডিং কমানো সম্ভব নয়।

ফরিদগঞ্জে দিনরাত মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কখনো এক ঘণ্টা, কখনো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে না।

রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ব্যবসায়ী বারেক গাজী জানান, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ যায়, রাতে ঘুমানোর সময়ও যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। এভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে কামতা ও ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কচুয়ায় তুলনামূলক কমবার বিদ্যুৎ গেলেও একবার চলে গেলে আধা ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় সংকট বেশি।

কচুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার দীপক চন্দ্র জানান, কচুয়ায় ৩৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমরা প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

চাঁদপুর শহরেও গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে ৭ থেকে ৮ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। যদিও প্রতিবার বিদ্যুৎ না থাকার সময় তুলনামূলক কম।

পৌর এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, বিদ্যুৎ যাওয়ার এখন আর কোনো সময় নেই। গভীর রাতেও চলে যায়। যাদের বাড়িতে আইপিএস নেই, তাদের দুর্ভোগ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ভূঞা জানান, আমাদের এলাকায় সর্বোচ্চ ৩১ মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। এই পরিস্থিতিকে আমরা স্বাভাবিক বলতে পারি।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকাকেই লোডশেডিংয়ের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কিন্তু জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকা মানুষ প্রশ্ন তুলছেন- যদি এটিই স্বাভাবিক হয়, তাহলে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি কাকে বলা হবে?

তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
 
বাংলাস্কুপ/ প্রতিনিধি/এনআইএন
 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ