ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষামন্ত্রী

​টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে সরকার গঠন করেছি, ধমক দিয়ে লাভ হবে না

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৭-০৬-২০২৬ ১২:৫১:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-০৬-২০২৬ ১২:৫৩:০৫ অপরাহ্ন
​টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে সরকার গঠন করেছি, ধমক দিয়ে লাভ হবে না ​ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ালে এবং তা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলেই তাকে পুলিশ আটক করবে। মনে রাখবেন, আমরা কিন্তু টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে সরকার গঠন করেছি। আমাদের ধমক-টমক দিয়ে কোন লাভ হবে না। কাজ করবেন, দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলে ঠিকঠাক মতো প্রমোশনসহ সব প্রাপ্য পাবেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, এর আগে আমরা ছাড় দিয়েছি। এবার কিন্তু ছাড় দেব না। যে বা যারাই প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করবেন, তাকেই পুলিশ আটকাবে। কারণ তাকে তো আগে পুলিশ কাস্টডিতে নিতে হবে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে, তাকে তথ্য দিতেই হবে।

মন্ত্রী বলেন, এবার ৯টা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। আগামী দিনে কমন সাবজেক্টে (একই বিষয়) মাদরাসা ও কারিগরিতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র করা হবে।এটাকে আমরা একই ধারায় আনতে চাই। সবার যোগ্যতা একই করে গড়ে তুলতে হবে।

সভার শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কলেজের ফলাফল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের মতামত শোনেন।

দাখিল ও আলিমে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করা একটি মাদরাসার একজন অধ্যক্ষ সভায় জানান, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা যেখানে ১২০০ নম্বরের পরীক্ষা দেন, সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ১৭০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সুযোগ পেতে মাদরাসায় বাংলা-ইংরেজিতে ২০০ নম্বর করা হয়েছে৷ এটা কমিয়ে আগের মতো ১০০ নম্বরের করার দাবি জানান তিনি। 


তবে শিক্ষামন্ত্রী তার এ দাবি মানা সম্ভব নয় বলে জানান। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী যাবেন, তখন তাকে ওখানে সবার সঙ্গে একই ধারায় যেতে হবে। সেজন্য বাংলা ও ইংরেজিতে ২০০ নম্বরের করার দরকার আছে। এটা থাকবে।

সভার শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী দিনাজপুর বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কলেজের ফলাফল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের মতামত শোনেন। এসময় একটি কলেজের অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন যে, বোর্ডের কর্মকর্তারা শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাজে ঠিকঠাক সহায়তা করেন না।

তার বক্তব্যে একমত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাবোর্ড কী করে, তারা মনে করে পরীক্ষা নেবো, খাতা দেখবে, রেজাল্ট দেবে আর ৫টা করে বোনাস নেবে। আবার প্রমোশনের জন্য কাজ বন্ধ করে আন্দোলনও করবে।

তিনি বলেন, বোর্ড ভাবে না যে, তাদের একাডেমিক জায়গা থেকে ইমপ্রুভ করার দায়িত্বও আছে। তাদের মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক এবং বাৎসরিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। কিন্তু তারা তা করে না।

কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি করে মন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ করতো, এখন সব বিএনপি হয়ে গেছে। সেই কর্মকর্তারাই আবার চেয়ারম্যানকে জিম্মি করে দাবি-দাওয়া আদায় করতে চান। হুমকি-ধামকি দেন। এগুলো আর চলবে না।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ। সভায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ