ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট, বন্যার শঙ্কায় উত্তরাঞ্চল

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৫-০৬-২০২৬ ০১:২৬:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-০৬-২০২৬ ০৩:৫০:২৪ অপরাহ্ন
​খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট, বন্যার শঙ্কায় উত্তরাঞ্চল ​ছবি: সংগৃহীত
উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল সামাল দিতে বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলোই খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি বেড়ে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে।

প্রতি বর্ষার মৌসুমে ভারতের অংশে তিস্তা নদীর ওপর বাঁধ খুলে দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশও তিস্তা ব্যারাজের গেট খুলতে বাধ্য হয়। ফলে নদনদীর পানি হঠাৎ করেই বেড়ে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এবারও ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার পর বাংলাদেশের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তা নদীর পানি কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমার কয়েক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় পানি প্রবেশ না করলেও বন্যার শঙ্কা থাকায় তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

প্রতিবছর এই সময়, বিশেষ করে জুন-জুলাই মাসের দিকে, বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যার কবলে পড়ে, যার মূল কারণ হিসেবে বৃষ্টি ও উজান থেকে হঠাৎ করেই নেমে আসা পানির ঢলের কথা বলা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের যে মাত্রায় বৃষ্টি হয়, তাতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হওয়ার শঙ্কা কম। কিন্তু উজানের দেশ ভারতের সঙ্গে থাকা আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে তৈরি করা বাঁধ খুলে দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে প্রতিবছরই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ অংশে নদীর নাব্য কমে যাওয়া বা নদী দখল হওয়াও বন্যার পেছনে ভূমিকা রাখে বলেও তারা জানান।

উজান থেকে আসা পানি নিয়ে সংকট কাটাতে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন এবং বন্যা পূর্বাভাসসহ নানা তথ্য লেনদেনের বিষয়ে যৌথ নদী কমিশনের তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলছেন নদী গবেষক ড. মোহাম্মদ মনজুরুল কিবরিয়া। ‘একটা যৌথ নদী কমিশন আছে শুনি, কিন্তু তার কোনো কার্যক্রম তো দেখি না। নেপাল, ভারত, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ এই চারটা দেশের মধ্যে নদী ইস্যুতে একটা সমঝোতা থাকতে হবে,’ বলেন তিনি।

এদিকে, বন্যার পূর্বাভাসসহ নদী সংক্রান্ত নানা তথ্যের লেনদেন বাড়াতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলছেন, তারা (ভারত) আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদের এলাকাকে তারা বন্যায় প্রভাবিত করবে না।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ