ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে নদী ভাঙন ঝুঁকিতে স্কুল-কলেজ, স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৩-০৬-২০২৬ ০১:০৫:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৩-০৬-২০২৬ ০১:০৫:৫৪ অপরাহ্ন
চাঁদপুরে নদী ভাঙন ঝুঁকিতে স্কুল-কলেজ, স্থানীয়দের উদ্বেগ ছবি : সংগৃহীত
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীর তীরবর্তী ধনাগোদা তালতলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনের ঝুঁকি। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের সীমানা দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই বিদ্যালয়ের মূল ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধনাগোদা নদীর তীরঘেঁষা মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে তীরের মাটি সরে গিয়ে দেয়ালের নিচের অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন স্কুলে এসে নদীর পাড়ের অবস্থা দেখে তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাসপিয়া ও নাজমুল জানায়, নদী ভাঙন দ্রুত বিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয় ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়বে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিব জানায়, তারা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। নদীর পাড় ভাঙতে দেখে তারা ভীত ও উদ্বিগ্ন। বিদ্যালয় রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।

নদীভাঙনের কারণে শুধু শিক্ষার্থী নয়, এলাকার ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিস্তীর্ণ জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়বে।

ধনাগোদা তালতলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফারুকুল ইসলাম জানান, নদীর প্রবল স্রোতে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের দেয়ালে একাধিকস্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঈদগাহ মাঠের পরেই বিদ্যালয়ের মূল ভবন অবস্থিত। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এখন জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ জানান, ধনাগোদা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তালতলী এলাকার পরিস্থিতিও নজরদারিতে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, ধনাগোদা নদীর ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণের জানমাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে বছরের পর বছর ভাঙনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। এবারও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পুরো এলাকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ