ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে?

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৬:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৬:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন
ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে? ​অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, অ্যাঞ্জেলা রায়নার ও ওয়েস স্ট্রিটিং। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে নিজ দল লেবার পার্টিকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২২ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে পরবর্তী সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ে অ্যান্ডি বার্নহাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া আলোচনায় আছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নারসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। জনমত জরিপ বলছে, সাধারণ ভোটারদের কাছেও তিনি বেশ গ্রহণযোগ্য। প্রায় এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহ্যামের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবেও পরিচিত। সবশেষ গত শুক্রবার পার্লামেন্টের একটি উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে লেবার পার্টিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে নামতে তাঁর অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি লি আসনের এমপি ছিলেন এবং সে সময় স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। এর আগে ২০১০ ও ২০১৫ সালে দুবার দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে নামলেও যথাক্রমে এড মিলিব্যান্ড এবং জেরেমি করবিনের কাছে তিনি পরাজিত হন।

অ্যাঞ্জেলা রায়নার
যুক্তরাজ্যের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার দেশটির রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নারী ব্যক্তিত্ব। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা রায়নার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। সেখান থেকে ব্রিটিশ রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর এই উত্থানকে অবিশ্বাস্য মনে করা হয়।

একজন কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় ‘ইউনিসন’ ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ২০১৫ সালে তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় আবাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। গৃহনির্মাণ বৃদ্ধি ও ভাড়াটেদের অধিকার সংস্কারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে ২০২৫ সালে একটি বাড়ি কেনার সময় যথাযথ ট্যাক্স পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠলে তিনি নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন।

ওয়েস স্ট্রিটিং
২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ওয়েস স্ট্রিটিং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং গত মে মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। এর আগে তিন বছর তিনি বিরোধী দলে থাকাকালীন ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়া স্ট্রিটিং ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের প্রেসিডেন্ট এবং লন্ডনের কাউন্সিলর হিসেবেও কাজ করেছেন। দলের ভেতর অত্যন্ত বাকপটু ও বিচক্ষণ নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) এর ওয়েটিং লিস্ট বা চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের দীর্ঘ তালিকা কমিয়ে আনাকে তাঁর অন্যতম বড় সাফল্য বিবেচনা করা হয়। দলের মধ্যপন্থি ও ডানপন্থি এমপিদের মাঝে তাঁর ব্যাপক সমর্থন থাকলেও, 'ডানপন্থি' ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ দলীয় কর্মীদের ভোট পাওয়া তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী
এই তিন হেভিওয়েট নেতা ছাড়াও সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নাম আলোচনায় আসলেও তিনি সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বিবিসিকে বলেন, আমার জন্য সেই অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নামও রয়েছে তালিকায়, তবে অভিবাসন নীতি নিয়ে কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ সদস্যদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনা চলছে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক রয়্যাল মেরিন কর্মকর্তা আল কার্নসকে নিয়ে।

সূত্র: বিবিসি 

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ