শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি তাহেরের মৃত্যুদণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২২-০৬-২০২৬ ০৬:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-০৬-২০২৬ ০৬:৫৮:০৮ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহের চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও ধর্ষণের পরে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।
গত ১৬ জুন এ মামলায় শুনানি শুরু হয়। ১৭ জুন চার্জ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয় আদালতে। সাক্ষ্য প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেন।
ঘটনার চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রায়ের পরে আদালত ও সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভিকটিম শিশুর পরিবার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় তাবাচ্ছুম। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে অভিযুক্ত আবু তাহের।
ঘটনার পর পরই খুনি পালিয়ে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের শফিউদ্দীনের ছেলে।
নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় টেইলার্স কর্মচারী এবং তার মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ চাকরি করেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স