ঢাকা , রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ , ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে কম আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ বেশি: সিপিডি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০৪:১২:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৬-২০২৬ ০৪:১২:২৪ অপরাহ্ন
বাজেটে কম আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ বেশি: সিপিডি ছবি : সংগৃহীত
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি আয়কর কাঠামোয় বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, নতুন কর কাঠামোয় তুলনামূলক কম ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ানো হয়েছে, অথচ উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে কর দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম রাখা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

কর কাঠামোয় বৈষম্যের অভিযোগ

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, করযোগ্য আয়ের বিভিন্ন স্তরের ওপর করের প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যাদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের কর দায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে বছরে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের ক্ষেত্রে করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

তিনি বলেন, ‘কর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আয় বৈষম্য কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রস্তাবিত কর কাঠামোতে সেই লক্ষ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং তুলনামূলক কম আয়ের মানুষ বেশি চাপে পড়বেন।’

কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও অর্থ বরাদ্দের স্পষ্ট প্রতিফলন নেই।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের অনুপাতে হয় কমেছে, নয়তো স্থবির রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানমুখী গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন পটুয়াখালী ইপিজেড ও জামদানি ভিলেজ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

তার ভাষায়, ‘সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হিসেবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয়

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সিপিডির মতে, বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ফলে লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।

সামষ্টিক অর্থনীতির পূর্বাভাস ‘অতি আশাবাদী’

সিপিডির মূল্যায়নে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা ইতিবাচক হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সরকারের পূর্বাভাস বেশ আশাবাদী।

সংস্থাটি মনে করে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এসব বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বাজেট সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা কর কাঠামো, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের মতে, অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে হলে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ