ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কম্বোডিয়ায় সাইবার প্রতারণার জাল: চার দিনে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০৩:৪১:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০৩:৪১:৫৫ অপরাহ্ন
কম্বোডিয়ায় সাইবার প্রতারণার জাল: চার দিনে ফিরলেন ২২১ বাংলাদেশি ছবি : সংগৃহীত
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৭৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বুধবার (১৭ জুন) রাতে থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩৩৯) একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে গত চার দিনে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে মোট ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।

আগের তিন দিনের মতো গতকাল রাতে ফেরত আসা সবাইকে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায় জরুরি সহায়তা ও বাড়ি পৌঁছানোর জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, সাইবার স্ক্যাম নিয়ে সবার সচেতনতা জরুরি। এটি মানবপাচারের ভয়াবহ এক ধরন। ভালো চাকরির কথা বলে বিদেশে নিয়ে গিয়ে সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এসব সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

তিনি আরও জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চার দিনে ২২১ জন বাংলাদেশির ফেরত আসা প্রমাণ করে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ফেরত আসা বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি মামলা করেছেন। পুরো ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন কর্মী চাকরি নিয়ে কম্বোডিয়া গমন করেন। ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, হাজার হাজার কর্মী চাকরি না পেয়ে সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের একজন জানান, তাকে দালালরা কম্বোডিয়ায় সরাসরি কোম্পানিতে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিল। সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র দিয়ে তাকে পাঠানো হয়। কিন্তু কম্বোডিয়া বিমানবন্দরে ভিজিট ভিসায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে আর ভিসা নবায়ন হয়নি। তিনি আরও জানান, সেখানে কোনও কোম্পানিই খুঁজে পাননি। পরে তাকে স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের শারীরিক নির্যাতন করে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজ না করলে টর্চার সেলে নিয়ে বিদ্যুৎসহ শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

এর আগে গত ১২ জুন কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন, ১৩ জুন ৫৪ জন এবং ১৭ জুন ৭৮ জন ভুক্তভোগী দেশে ফেরেন। এর আগে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।

ব্র্যাক জানায়, কম্পিউটার ও কলসেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিয়োগের প্রচারণা চালানো হয়। পরে তাদের স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হয়। থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে না পা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ