ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশাবাদী ফরিদপুরের চাষিরা

সোনালি আঁশে ফিরছে সুদিন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০১:০৭:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০১:০৭:৩৪ অপরাহ্ন
সোনালি আঁশে ফিরছে সুদিন ফাইল ছবি
সোনালি আঁশ পাট আবারও ফিরিয়ে আনছে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণচাঞ্চল্য। ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে ৮৭ হাজার হেক্টর জমিজুড়ে দুলছে সবুজ পাটখেত। কৃষকরা মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিচর্যায়। তবে জ্বালানি সংকট, সার ও বীজের উচ্চমূল্য নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। সব চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এবার পাটের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

বাংলার ঐতিহ্যের সোনালি আঁশ পাট। আর এই পাটের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুর। চলতি মৌসুমে ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেছেন কৃষকরা। জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার খেতজুড়ে ভালো ফলনের আশা দেখছেন চাষিরা।

বর্তমানে পাটখেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ জেলার কৃষকরা। তবে মৌসুমের শুরুটা ছিলো বেশ চ্যালেঞ্জের। জ্বালানি সংকট, সার ও বীজের উচ্চমূল্যে বাড়তি খরচের চাপ পড়ে কৃষকের ওপর।

গত কয়েক বছর যাবৎ পাট উৎপাদন খরচ বেড়েছে, শ্রমের মূল্যও বাড়েনি প্রত্যাশামতো। তবু ভালো ফলন, পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি এবং ন্যায্য বাজারমূল্যের আশায় স্বপ্ন বুনছেন ফরিদপুরের পাটচাষিরা। তাদের প্রত্যাশা— সোনালি আঁশ যেন আবারও ফিরিয়ে আনে সোনালি দিনের হাসি।

স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, ‘তেলের দামের জন্য জমি চাষে খরচ হচ্ছে বেশি। পানি নেয়ার জন্য বিঘাপ্রতি দুই-তিন হাজার টাকা লাগে।

জেলার দিগন্ত জুড়ানো মাঠে এখন বাতাসে দুলছে পাটগাছ। যেদিকেই তাকানো যায় পাটের সবুজ খেত আর খেত।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। রোগবালাইও তুলনামূলক কম রয়েছে।

এখন শুধু পাট জাগ দেওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি আর বাজারে ভালো দাম চাই। তাহলেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কৃষকদেরকে বিশেষ করে পাটের যে ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে আগাছা দমন থেকে শুরু করে রোগবালাই বা পোকামাকড়ের যে ব্যবস্থাপনা সে বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। পাটের আরেকটি যে আঁশের পাশাপাশি পাটের আরেকটি বড় অর্থনৈতিক ভূমিকা আছে সেখানে পাটকাঠি। পাটকাঠির কিন্তু যথেষ্ট বাজারমূল্য আছে এবং পাটের যে বাজারমূল্য এ পর্যন্ত এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০০ টাকার উপরে। আমরা আশা করছি যে বাজারমূল্য যদি এভাবে থাকে, তাহলে এলাকায় যে পাটের যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আছে, আগামী দিনে পাট চাষ করে কৃষকেরা আরও বেশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।’

ফরিদপুরে এ বছর ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনের সম্ভাবনাও ভালো। কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ফলনের সম্ভাবনা ভালো হলেও কৃষকদের মূল উদ্বেগ উৎপাদন খরচ ও বাজারদর। এখন শেষ পর্যন্ত পাটের দামই নির্ধারণ করবে তাদের লাভ-লোকসানের হিসাব।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ