ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীর বাড়ি যেন একখণ্ড জার্মানি

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৩-০৬-২০২৬ ০৩:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৬-২০২৬ ০৩:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন
প্রবাসীর বাড়ি যেন একখণ্ড জার্মানি ছবি : সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় সাড়া দিয়ে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর এলাকার জার্মান প্রবাসী সাগর কুলেন্তুনুর বাড়ি ও পুরো আঙিনা, গাছপালা এমনকি আশপাশের পরিবেশও রাঙানো হয়েছে জার্মান পতাকার রঙে। 

নিজ বাড়ির এক একর আয়তনের আঙিনায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় জার্মানির পক্ষে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উম্মাদনা ছড়াতে তার বাড়ি ও আঙিনাটি যেন রীতিমতো ছোট্ট একটি জার্মান ফুটবল কর্ণার। প্রিয় দল জার্মানিকে উপস্থাপন করেছেন জার্মানের ৪০টি জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করে।

পাশাপাশি ১০টি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, যা নিজ মাতৃভমি বাংলাদেশকে সম্মান করে জার্মানি পতাকা থেকে এক ফুট উঁচু করে প্রদর্শন করা হয়েছে। বাড়ির টিনের চাল ও দেয়াল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির দুই শতাধিক গাছ রং করা হয়েছে জার্মান পতাকার লাল-হলুদ-কালো রং দিয়ে। 

বাড়ির বড় আঙিনায় ফুটবল মাঠের আদলে সাজিয়ে সেখানে জার্মান দলের খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতি বসানো হয়েছে। রয়েছে গোল পোস্ট এবং ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ। সেখানে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপের প্রতিকৃতি এবং জার্মান দলের চারবারের বিশ্বকাপ বিজয়ের সাল। 

নান্দনিক এই সাজ মুগ্ধ করেছে পথচারী ও দর্শনাথীদের। প্রতিদিনই অনেক মানুষ ওই বাড়িতে গিয়ে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন। বাড়িটি ইতোমধ্যেই ‘জার্মান বাড়ি’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগর কুলেন্তুনু (৩৬) ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর কক্সবাজারের চকরিয়া ব্যাপ্টিস্ট মিশন হাসপাতালে প্যাথলজি বিষয়ের ওপর ডিপ্লোমা করেন এবং পাশাপাশি চকরিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) পাশ করেন। 

তার বাবা সুবাস কুলেন্তুনু চাকরি করতেন ঢাকাস্থ আমেরিকান ক্লাবে, মা কানন গমেজ গৃহিণী। ২০১৪ সালে তার বড় ভাই কল্লোল কুলেন্তুনু বাহরাইন পাড়ি দেন। পরে বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় সাগর বাহরাইন স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্যাথলজি ডিপার্টমেন্টে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর ২০১৬ সালে বাহরাইন থেকে জার্মানিতে নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি জার্মান ভাষা শেখেন। 

নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জনের পর থেকে তিনি জার্মানির ডর্ডমুন্ডের একটি হাসপাতালে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর পদে কাজ করছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি যশোরের মেয়ে এমলিনা সরকারকে বিয়ে করেন। বিয়ের জন্য তিনি বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর নিজ বাড়িতে জার্মানি পতাকার আদলে পুরো বাড়ি ও গাছপালা রং দিয়ে সজ্জিত করেন। বিয়ের আসরে বর্ণিল ডেকোরেশন দেখে অতিথিরা তখন বিস্ময় প্রকাশ করেন। 

একইভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে জার্মানি পতাকা দিয়ে এবং পতাকার আদলে বাড়ি, গাছপালা, আঙিনা যেভাবে সুসজ্জিত করেছেন তাতে আগত দর্শনার্থীরা বিস্মিত হচ্ছেন।

সাগর কুলেন্তুনুর স্ত্রী এলমিনা সরকার জানান, আমার স্বামীর পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো বাড়িটি সাজানো হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আমাদের বাড়িটি দেখতে আসছেন। যা দেখে আমাদের খুব ভালো লাগছে। 

পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী অবনী সরকার জানান, আমি ব্রাজিলের সাপোর্টার, তারপরেও জার্মানি দলের পক্ষে সজ্জিত এই বাড়িটি দেখতে এসেছি। খুবই নান্দনিকভাবে জার্মানির পতাকার রঙে বাড়িটি সাজানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এটি শুধু প্রিয় ফুটবল দলের প্রতি ভালবাসাই নয়, একটি সৃষ্টিশীল কাজও বটে। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের হাত ধরে জার্মানির পতাকার রঙে পুরো বাড়িসহ আশপাশের সবকিছুকে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরাও আসছেন। চমৎকার একটি উদ্যোগ এটি। 

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ