সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে উলিপুরবাসী
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোতে পারাপার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-০৬-২০২৬ ০৩:১৩:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৬-২০২৬ ০৪:২৫:৫৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ২০ হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রতিদিন নানা বয়সী মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, উপজেলার তবকপুর ও ধামশ্রেণী ইউরিয়নের উত্তর বিজয়রাম এলকার বুড়ি তিস্তা নালার ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে প্রায় ২৫ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। যা বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এতে স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুর অভাবে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব না হওয়ায় প্রায়ই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী (৪০), আসাদুল ইসলাম (৫৫), মোস্তাফিজার রহমানসহ (৬০) অনেকেই বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। বর্তমানে যে সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার মিয়া(৫৫) বলেন, সেতু না থাকায় উপজেলা শহর সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে যেতে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়। তাই এই সাকোঁ দিয়ে উলিপুর যেতে খুব সহজ হয়। তাই সরকারের কাছে স্থায়ী ভাবে সেতু দেয়ার জন্য জোড়দাবি জানাই।
দেওয়ানী পাড়া এলাকার আকলিমা বেগম (৫০) বলেন, অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্কুল শিক্ষার্থী রাফিয়া খাতুন, রাব্বি হোসেন, সিপাত চিনহা জানায়, আমরা প্রতিদিন নরবরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করি। পার হতে খুব ভয় লাগে কখন জানি পানিতে পরে যাই।
মাদারাসা শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে বাঁশের সাঁকো রয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে। এখন বর্ষা মৌসুম, পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
পথচারী বৃদ্ধ আব্দুল জলিল মিয়া (৬০) বলেন, আমি আত্মীয়ের বাড়িতে গেছিলাম, ভাবলাম এই পথ দিয়ে উলিপুর যাই। এসে দেখি বাঁশের সাঁকো, বয়স্ক মানুষ পার হতে পারবো না তাই ঘুরে যেতে হচ্ছে।
ধামশ্রেণী ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল হক বলেন, ওই সাঁকোটি দুইটি ইউনিয়নের মধ্যে পরেছে, আমি অনেক আগেই শুনেছি ওখানে না কি একটি সেতু হবে কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নেবো।
এ বিষয়ে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. আরিফ জানান, বিষয়টি আপনার কাছে শুনলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স