ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​নিত্যপণ্যে স্বস্তি আনতে ৬০ পণ্যে কর কমানোর প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৬ ১২:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০১:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন
​নিত্যপণ্যে স্বস্তি আনতে ৬০ পণ্যে কর কমানোর প্রস্তাব ​ছবি: সংগৃহীত
দ্রব্যমূল্যের চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কিছুটা স্বস্তিদায়ক করতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বড় ধরনের কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও মৌলিক কৃষিজাত প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এসব পণ্যের ওপর উৎসে করের হার পণ্যভেদে ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ কিংবা ১ শতাংশ। নতুন বাজেট প্রস্তাবে সব ধরনের হার কমিয়ে অভিন্নভাবে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কর ছাড়ের আওতায় আসছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ। একই সঙ্গে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের মতো আমিষজাত পণ্যও এ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎসে কর কমানো হলে পণ্য বাজারজাতকরণের ব্যয় কমবে এবং এর প্রভাব পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই পড়বে। ফলে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।

সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পণ্যমূল্যের যে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই কর হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার মতে, করের হার ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হলে বাজারে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বীজ, কৃষিপণ্য ও উৎপাদন সংশ্লিষ্ট খাতে করের চাপ কমায় কৃষকরাও উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত হবেন। তবে কর কমানোর সুফল ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে বাজারে সিন্ডিকেট বা অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা ঠেকাতে কার্যকর নজরদারির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হতে যাচ্ছে। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহ করবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, আর সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। স্বাধীন বাংলাদেশের এটি ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ