ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খানজাহান আলী মাজারের দীঘির কুমির সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৩-০৬-২০২৬ ১১:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৩-০৬-২০২৬ ১১:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন
খানজাহান আলী মাজারের দীঘির কুমির সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ছবি : সংগৃহীত
বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য হযরত খানজাহান আলী (র:) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর পর দীঘির একমাত্র মাদ্রাজি কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, ভক্ত ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাজার প্রাঙ্গণে আগত দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীঘির কুমিরটিকে সাময়িকভাবে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হবে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, শত শত বছর ধরে এই ঐতিহাসিক দীঘিতে সুলতানুল আউলিয়া হযরত খানজাহান আলী (র:) এর স্মৃতিবিজড়িত ‘কালাপাহাড়’ এবং ‘ধলা পাহাড়’ নামের কুমিরের বংশধরেরা বসবাস করে আসছিল। তবে একপর্যায়ে কুমিরগুলোর প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডিম দিলেও বেশ কয়েক বছর ধরে কোনও বাচ্চা ফুটছিল না।

পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ভারত সরকার উপহার হিসেবে ৬টি মিঠা পানির মাদ্রাজি কুমির বাংলাদেশে পাঠায়। সেগুলো এই দীঘিতে ছাড়ার পর আদিবাসী কুমিরদের সঙ্গে ভারতীয় কুমিরগুলোর রক্তক্ষয়ী লড়াই হয়। এতে কয়েকটি কুমির মারা যায় এবং বেশ কয়েকটি আহত হয়। আহত দুটি ঐতিহ্যবাহী কুমিরকে চিকিৎসার জন্য সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে পাঠানো হলেও পরবর্তীতে চেষ্টা করেও সেগুলোকে আর দীঘিতে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কুমিরগুলো মারা যাওয়ার পর দীঘিতে কেবল এই একটিমাত্র ভারতীয় মাদ্রাজি কুমিরই অবশিষ্ট ছিল।

মাজারের প্রধান খাদেম তারিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঐতিহাসিক খানজাহান দীঘিতে কুমিরের ঐতিহ্য ধরে রাখা যেমন প্রয়োজন, তার চেয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দীঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন সময় মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর ওপর আক্রমণ করছে।’

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ‘মাজারের দীঘি থেকে কুমিরটি নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল আসবে। তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কুমিরটি ধরার পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করবেন। এই কুমিরটি সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী খানজাহান দীঘি আপাতত সম্পূর্ণ কুমির শূন্য হয়ে পড়ছে।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, মাজারে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত দীঘির কুমিরটিকে সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হবে। শত শত বছর ধরে এই দিঘিতে ‘কালাপাহাড়’ এবং ‘ধলা পাহাড়’ কুমিরের বংশধারারা বসবাস করে আসছিল। কিন্তু সেই কুমিরে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার কুমিরের ডিম দিলেও বেশ কয়েক বছর ধরে বাচ্চা হচ্ছিল না। এরপর ২০০৫ সালে উপহার স্বরূপ ৬টি পাঠায় ভারত সরকার। সেখানে দীঘিতে থাকা তিনটি কুমিরের সঙ্গে ভারতীয় মিঠা পানির মাদ্রাজি কুমিরের সঙ্গে লড়াই হওয়ার এক পর্যায়ে দুই তিনটি কুমির মারা যায় এবং কয়েকটি আহত হয়। আহত দুইটি খানজাহান দীঘির কালাপাহাড় ধলা পাহাড় কুমিরের বংশধর সুস্থতার জন্য সুন্দরবনের কুমির প্রজনন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেগুলো আর এখানে চেষ্টা করেও ফেরত দেয়া হয়নি। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময় কুমির মারা যাওয়ার পর একমাত্র মিঠা পানির একটিমাত্র মাদ্রাজি কুমির  বসবাস করে আসছিল। সেটি বিভিন্ন সময় দর্শনার্থীদের উপর আক্রমণ, কখনো অন্যান্য প্রাণীদের উপর আক্রমণ করার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নামে ফাতেমা আক্তার নামের ৮ বছর বয়সী এক শিশু। এ সময় আকস্মিকভাবে কুমিরটি শিশুটির ওপর আক্রমণ করে এবং তার পা কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে দীঘির পূর্ব পাড়ে শিশুটির দাফন সম্পন্ন হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই জেলা প্রশাসন দ্রুত এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ