ঢাকা , বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় ছয় বছরে আদায় ৪৩ লাখ টাকা!

খেয়াঘাটের অতিরিক্ত ভাড়ায় অতিষ্ঠ যাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০২-০৬-২০২৬ ১২:৪২:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-০৬-২০২৬ ১২:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন
খেয়াঘাটের অতিরিক্ত ভাড়ায় অতিষ্ঠ যাত্রীরা ফোকাস বাংলা নিউজ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সোনাতলা নদী পারাপারে তেগাছিয়া খেয়াঘাটে যাত্রীদের জিম্মিদশার অবসান ঘটেনি। গত ছয় বছর ধরে যাত্রীরা জিম্মি হয়ে আছেন। জুলুমবাজ চক্র খেয়া ভাড়া আদায়ের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। গেল ছয় বছরে এই খেয়ার ভাড়া আদায়কারী যাত্রীদের কাছ থেকে অন্তত ৪৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জুলুমবাজচক্রের চাঁদা আদায়ের এই সিস্টেমকে সচল রেখেছেন আরেক রাজনৈতিক দলের অনুসারিরা। জনপ্রতি পাঁচ টাকা আদায় করার কথা থাকলে এই খেয়াটিতে বছরের পর বছর আদায় হচ্ছে ১০টাকা। আবার ঈদ-কোরবানি কিংবা সন্ধ্যার পরে আদায় হচ্ছে ২০ টাকা করে। এছাড়া খেয়াটি পার হতে গেলে পরিচালনাকারীর ইচ্ছামতো এক পার থেকে অন্য পারে যেতে হয়। এনিয়ে কথা বললে লঞ্ছিত করা হয় যাত্রীদের। এমনকি এক শিক্ষককে গেল বছর মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে। এই খেয়াটির নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় গোলবুনিয়া গ্রামের গাজীবাড়ির একটি চক্র। এচক্রের কারণে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

খেয়ার চালকের দেওয়া তথ্যমতে, সোনাতলা নদী পারাপার হয়ে ওই পথে প্রতিদিন গড়ে অন্তত চারশ’ মানুষ খেয়া পারাপার হয়। প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হলে দৈনিক অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অন্তত দুই হাজার টাকা। মাসে ৬০ হাজার, বছরে কমপক্ষে সাত লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চাঁদাবাজ ওই চক্রটি। এভাবে চলছে অন্তত ছয়টি বছর। এমন জুলুম, দুর্ব্যবহার থেকে মানুষ পরিত্রাণ চাইলেও পরিত্রান মেলেনি। সাধারণ মানুষ ভয়ে, মান-ইজ্জত নষ্টের শঙ্কায় এখন আর প্রতিবাদ কিংবা অনুযোগ, ক্ষোভ কোনটাই তেমন জানায় না। তাদের অনেকের প্রশ্ন গত এক যুগ ধরে বলতে বলতে কখনো কয়েকদিন ঠিক ছিল। আবার যেই সেই। এবারের কোরবানির ঈদে খেয়ার মাঝি কাম আদায়কারী রাকিবুল গাজী এনিয়ে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে জানান, আগেও ১০টাকা নিছে। আমরাও ১০টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে কোন কথা নেই। এরা খেয়াঘাটে বসে লুডু খেলে। যখনই খেলা শেষ হয় তখন যাত্রীরা যেতে পারে নয়তো নয়। রাত আটটার পওে এই খেয়ায় যার কাছ থেকে যা পারে তাই নেওয়া হয়। 

এক যাত্রী আমিনুল ইসলাম জানান, সোনাতলা নদীতে চারটি খেয়া রয়েছে। ফুলবুনিয়া, রাজ্জাক সিকদার বাড়ির খেয়াঘাট, বাইনতলা ও আরামগঞ্জ খেয়াঘাট। প্রত্যেক খেয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা নেওয়া হয়। অথচ একই নদীতে তেগাছিয়া খেয়াঘাটে নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা করে। এমনকি কলাপাড়া উপজেলায় সব খেয়া পারাপারে যাত্রীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যতিক্রম তেগাছিয়া খেয়াঘাটে। এনিয়ে মানুষ এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। 

উপজেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে তেগাছিয়ার ওই খেয়াটি এবছর ইজারা নিয়েছেন, মো. হারেচ গাজীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন। কলাপাড়া উপজেলায় এবছর মোট ২০টি খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসব খেয়াঘাটে ঘুরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সবগুলো খেয়া পারাপারে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে আদায় করা হয়।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, বিষয়টি তিনি জরুরি ভিত্তিতে দেখবেন। প্রত্যেকটি খেয়াঘাটে যাত্রীপারাপারের রেটচার্ট টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/মেজবাহউদ্দিন মাননু,কলাপাড়া/এনআইএন

 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ