ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ , ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​তৃণমূলের আরেক নেতাকে ঘিরে ‘মব’

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ৩১-০৫-২০২৬ ০৬:১৬:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩১-০৫-২০২৬ ০৬:২০:২৯ অপরাহ্ন
​তৃণমূলের আরেক নেতাকে ঘিরে ‘মব’ ​ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পরপর দুই দিন জনরোষের মুখে পড়ে আহত হলেন রাজ্যে সদ্য ক্ষমতা হারানো দল তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রভাবশালী নেতা।

শনিবার (৩০ মে) দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মারধরের শিকার হওয়ার পর রোববার (৩১ মে) হুগলিতে হামলা হয়েছে দলটির আরেক নেতা ও বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার, আটকের প্রতিবাদে রোববার সকালে হুগলির চণ্ডীপুর থানায় অভিযোগ জমা দিতে গেলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন একদল মানুষ।

এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের ছোড়া ইটের আঘাতে মাথা চেপে ধরে রাস্তায় পড়ে যান শ্রীরামপুর থেকে নির্বাচিত এই বিধায়ক। পরে তাকে ঘিরে থাকা তৃণমূল কর্মীরা দ্রুত শুশ্রূষা করেন। কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর কল্যাণ নেতাকর্মীদের নিয়ে চণ্ডীতলা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

কারা মারল, কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হল না–বিক্ষোভে বসে এ নিয়ে পুলিশকে পাল্টা প্রশ্ন করেন কল্যাণ। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কারা মারল আমাকে? কেন ব্যবস্থা নিলেন না? পিছন থেকে হামলা হয়েছে, আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছিল। আমি মারা গেলে কি আমার শরীরের উপর দিয়ে গিয়ে আপনারা অ্যাকশন নেবেন?

তাতে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বিধায়ক কল্যাণ লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে কল্যাণ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলায় আর গণতন্ত্র নেই। গুণ্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে বাংলা। এই বাংলায় সাংসদরাই যদি এভাবে আক্রান্ত হয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আপনারা সবাই প্রতিবাদ করুন।

তবে হুগলির গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ দাবি করেছেন, কল্যাণকে ঘিরে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। কল্যাণ একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময় নিহত দলের এক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে মারধর ও ডিম হামলার শিকার হন তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের আরেক সংবাদপত্র সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, শনিবার সোনারপুরের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তার প্রতিবাদে এ দিন চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যাচ্ছিলেন বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল। সে সময় থানার সামনে ‘জনরোষ’ আছড়ে পড়ে তাদের উপর।

প্রথমে কল্যাণকে কালো পতাকা দেখানো হয়, ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এরপর মুহুমুর্হু ইট-পাটকেল ধেয়ে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে ইটের আঘাতে মাথায় আঘাত লেগে রাস্তায় পড়ে যান কল্যাণ। দলের অন্য কর্মীদের সঙ্গে ‘বিক্ষুব্ধ জনতার’ ধস্তাধস্তিও হয়।

এ ঘটনার পর রোববার দুপুরে কল্যাণকে দেখতে তার ভবানীপুরের বাসায় যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে ফেইসবুকে এক পোস্টে মমতা লেখেন, বিজেপি ‘পরিকল্পনা’ করে কল্যাণের উপরে হামলা চালিয়েছে। যেমন শনিবার তৃণমূল বিধায়ক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর করা হয়েছিল।

এদিকে গোটা রাজ্যজুড়ে হঠাৎই নানা অভিযোগে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধড়পাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। আনন্দবাজারের তথ্য বলছে, শনিবার রাত থেকে তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদার, চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ, ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা, কাউন্সিলর রঞ্জন রাহা, নির্মল চক্রবর্তী, সমীর সরকারসহ ১০ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

তৃণমূলের আরেক ‘হেভিওয়েট’ নেতা মদন মিত্রের কামারহাটির বাড়িতেও রোববার পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। বাড়ির তালা ভেঙে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে পুলিশ চলে যায়।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ