এনডিটিভির প্রতিবেদন
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে অমিত শাহের ‘নীলনকশা’
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
৩১-০৫-২০২৬ ০৪:০০:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩১-০৫-২০২৬ ০৪:০০:২৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় এবং দলটির ভাষায় কেন্দ্র ও রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ গঠনের পর, পূর্ব ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংবেদনশীল ইস্যু—ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে তৎপরতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, অবৈধ অভিবাসন, চোরাচালান এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিলম্বের বিষয়গুলো কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এবার তারা স্রেফ স্লোগান আর প্রচারণার বাইরে গিয়ে সরাসরি প্রশাসনিক পদক্ষেপের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, সীমান্ত ইস্যুটিকে কোনো প্রতীকী ঘোষণা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও ফলাফল-ভিত্তিক উপায়ে সমাধান করতে হবে।
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, অমিত শাহ বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, কেবল প্রচারের উদ্দেশ্যে কোনো ‘অর্ধসমাপ্ত’ অভিযান চালানো যাবে না। প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে আইনগতভাবে টেকসই, কূটনৈতিকভাবে সতর্ক এবং কার্যক্ষেত্রে কার্যকর।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছেন। এবারের মূল জোর দেওয়া হচ্ছে—তাড়াহুড়ো করে বা যত্রতত্র ‘পুশব্যাক’ (জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো) না করে, প্রকৃত অনুপ্রবেশকারীদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার ওপর।
সূত্র মতে, অমিত শাহ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয় যা ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় ফাটল ধরায়। অতীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে বা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ‘পুশব্যাক’ করার কারণে ঢাকা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছিল।
এবার কৌশল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নয়াদিল্লি এমন একটি প্রক্রিয়া চাইছে যেখানে অনুপ্রবেশকারীদের সঠিকভাবে শনাক্ত ও নথিবদ্ধ করার পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বিতর্ক এড়িয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা। কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কেবল আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একই সঙ্গে মানবিক, ভূরাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক বক্তৃতার চেয়ে অনেক বেশি জটিল প্রমাণিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মেক্সিকো সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তীব্র কড়াকড়ির পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ হয়নি। একটি দীর্ঘ ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত করা কতটা কঠিন—তা বোঝাতে ভারতের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এখন প্রায়ই ট্রাম্পের সেই উদাহরণ টানা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তটি আরও বেশি জটিল। এই সীমান্তের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম, কৃষিজমি, নদীপথ, চরাঞ্চল, জঙ্গল এবং দুর্গম ভৌগোলিক এলাকা। বেশ কিছু জায়গায় ‘জিরো লাইন’ বা প্রকৃত আন্তর্জাতিক সীমানাটি এমন কিছু জনবসতির মাঝখান দিয়ে গেছে, যেখানে বহু প্রজন্ম ধরে মানুষ বসবাস করছে।
ভারত সরকার এখন পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া প্রকল্পের কাজ গতিশীল করেছে। যেসব জমির মালিকের জমি বেড়া ও বিএসএফের অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজন, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ তৈরি করা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, পুরো সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করা সহজ নয়। সরকার মনে করে, কেবল বলপ্রয়োগ করে এ প্রক্রিয়া সফল হতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ভরসায় নিতে হবে। সীমান্তের কাছাকাছি থাকা কৃষক ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি, কারণ কাঁটাতারের বেড়ার কারণে প্রায়ই তাদের কৃষিকাজ, যাতায়াত ও জীবিকা ব্যাহত হয়।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স