মিনায় হাজিরা, ঈদুল আজহার শুরুতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৭-০৫-২০২৬ ০৫:১৬:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৫-২০২৬ ০৫:১৬:২৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান এবং সবচেয়ে কঠিন ধাপ সম্পন্ন করতে বুধবার (২৭ মে) ভোর হওয়ার আগেই মুজদালিফা থেকে মিনায় পৌঁছেছেন ১৭ লাখের বেশি মুসলমান। সেখানে শয়তানের উদ্দেশ্যে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাতের ময়দান থেকে আসা হাজিরা তিন শয়তানের প্রতিনিধিত্বকারী স্তম্ভের মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘জামারাত আল-আকাবা’য় নিক্ষেপের জন্য মুজদালিফায় রাত কাটানোর সময় পাথর সংগ্রহ করেন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই সমাবেশে ভিড় সামলাতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক নজরদারির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার রাতে আরাফাত থেকে মুজদালিফায় হাজিদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সাদা ইহরাম পরিহিত লাখ লাখ হাজি আরাফাত থেকে মুজদালিফা হয়ে মিনা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পায়ে হাঁটার পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। মরুভূমির তীব্র তাপমাত্রা থেকে হাজিদের স্বস্তি দিতে এই পথের বিভিন্ন অংশে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মুজদালিফায় হাজিরা রাতভর প্রার্থনা ও কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সময় কাটান। এরপর হজের তৃতীয় দিন, যা ‘ইয়াওম আন-নাহর’ বা কোরবানির দিন হিসেবে পরিচিত, ভোরে প্রথম পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতার জন্য মিনায় ফিরে আসার প্রস্তুতি নেন।
প্রথমবার পাথর নিক্ষেপের পর হাজিরা পশু কোরবানি সম্পন্ন করবেন এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরামের পবিত্র অবস্থা থেকে আংশিক মুক্ত হবেন। এরপর অনেক হাজি মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে গিয়ে বিদায়ী তাওয়াফ বা তাওয়াফ আল-ইফাদাহ, অর্থাৎ কাবার চারপাশ সাতবার প্রদক্ষিণ এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করতে যাবেন। পরবর্তীতে তাশরিকের দিনগুলোতে অতিরিক্ত পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতার জন্য হাজিরা আবারও মিনায় ফিরে আসবেন।
এর আগে মঙ্গলবার হাজিরা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। সেখানে তারা প্রার্থনা করেন এবং নামিরাহ মসজিদে হজের বার্ষিক খুতবা শোনেন। সূর্যাস্তের পর তারা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দান ইসলামি ঐতিহ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের স্থান হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাবাল আল-রাহমাহ বা রহমতের পাহাড়, যেখানে হাজিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রার্থনা ও আত্মোপলব্ধিতে মগ্ন থাকেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হজে ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন হাজি অংশ নিয়েছেন, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জন সৌদি আরবের বাইরে থেকে এসেছেন এবং ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় বাসিন্দা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজের চূড়ান্ত ধাপগুলো সম্পন্ন করার সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন নেটওয়ার্ক, চিকিৎসা সেবা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ মৌসুমে ৪ লাখ ৪১ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মী, মেডিকেল টিম এবং সেবা কর্মীদের সমন্বিত পরিবহন, জরুরি সাড়া, পরিচ্ছন্নতা ও মাঠ পর্যায়ের দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রমের কারণে হাজিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ছিল।
সূত্র: আরব নিউজ
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স