ঈদের ছুটিতেও সক্রিয় এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙ্গলেই মামলা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৭-০৫-২০২৬ ০৫:০২:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৫-২০২৬ ০৫:৪১:২২ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেলেও ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কোনো আলসেমি নেই। ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতি কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যকারীদের ধরতে শতভাগ সক্রিয় রয়েছে রাজধানীর ‘এআই’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা। আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরাসরি চলে যাচ্ছে জরিমানা ও মামলা, সেই সঙ্গে চালকের লাইসেন্স থেকে কাটা যাচ্ছে ‘ডিমেরিট’ পয়েন্ট।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রায় ২০০টি অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা সার্বক্ষণিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে। গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে উন্নত ‘পিটিজেড’ (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা।
প্রতিটি ৬০ হাজার টাকারও বেশি মূল্যের এই ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারে এবং বেশ দূর থেকেও নিখুঁতভাবে গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করতে সক্ষম। সফটওয়্যারের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হওয়ামাত্রই গাড়ির তথ্য ডিএমপির সার্ভারে চলে যায় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকের নামে মামলা হয়ে যায়।
ঈদের সরকারি ছুটির কারণে মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট না থাকলেও ফাঁকা সড়কে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মূলত যেসব অপরাধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা দেওয়া হচ্ছে:
১/ উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা।
২/ স্টপ লাইন অতিক্রম এবং জেব্রা ক্রসিং দখল করে দাঁড়ানো।
৩/ হঠাৎ লেন পরিবর্তন, অবৈধ পার্কিং ও বাঁ দিকের লেন বন্ধ রাখা।
৪/ হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ফুটপাতে গাড়ি ওঠানো।
উল্লেখ্য, প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে মোট ১২টি 'ডিমেরিট' পয়েন্ট থাকে। এই এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে আইন ভঙ্গের অপরাধ শনাক্ত হলে পয়েন্ট কাটা যাবে এবং একপর্যায়ে চালকের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে এআই ক্যামেরার চালুর সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নতুন এক প্রতারণা শুরু করেছে একটি চক্র। জরিমানার কথা উল্লেখ করে মোবাইল ফোনে ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। এই বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ডিএমপি।
ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে কোনো জরিমানার নোটিশ পাঠানো শুরু হয়নি। ট্রাফিক মামলার সব তথ্য বর্তমানে শুধুমাত্র অফিশিয়াল স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে ০১৩২০-০৪২২০৭ ও ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর ছাড়া অন্য কোনো নম্বর থেকে পাঠানো বার্তা বা কল বিশ্বাস না করার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স