ঢাকা , শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিধিমালায় বড় পরিবর্তন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার-ইভিএম

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-০৫-২০২৬ ০১:৩৯:২৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৫-২০২৬ ০১:৩৯:২৫ অপরাহ্ন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার-ইভিএম ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার বন্ধ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাতিল হচ্ছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল ও ইভিএম ব্যবহারের বিধান। সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে থাকছে না কোনো দলীয় প্রতীক।

এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় এসব প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। আগামী জুনের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ হবে এবং আগামী অক্টোবর থেকে এই নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আশা করছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করে আগামী জুন মাসের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ করা হবে। আগামী অক্টোবর থেকেই এই নির্বাচন শুরু করা যাবে বলে আশা করছে কমিশন।

প্রস্তাবিত সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনে কোনও দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। বর্তমানে নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য সমর্থন হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সব স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তবে এই জামানতের পরিমাণ কত হবে তা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।

নতুন বিধিমালায় প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। পাশাপাশি ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন—

প্রথমত, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, সরকার কী চায় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী-সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি। তারা কী চায়? তারা কি মারামারি-হানাহানির পথে যাবে, নাকি দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করবে? তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সংঘর্ষ নয়।

তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব। তিনি বলেন, ইসি নিরপেক্ষ থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও ইসির নিজস্ব কোনো শক্তি নেই; তবুও নীতি ও দৃঢ়তার জায়গা থেকে ‘হুংকার’ দিতে হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠু থাকে।

চতুর্থত-নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের আচরণ। লাখ লাখ মানুষ নির্বাচনী দায়িত্বে থাকেন। প্রিসাইডিং অফিসার যদি আন্তরিকভাবে বলেন- জাল ভোট আমি করতে দেব না, বা দুই নম্বর কাজ হবে না-তাহলে তা তার সততা, ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর নির্ভর করে।

সহিংসতাহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, সহিংসতা মূলত আইন-শৃঙ্খলার বিষয়। কেউ সংঘর্ষ সৃষ্টি করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি হবে। তবে শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়, দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, সহযোগিতা না করলে আমরা কী করব? খেলোয়াড় যদি সারাদিন ফাউল করে, রেফারি কয়টা ফাউল ধরবে?

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুটি রাজনৈতিক জোট আচরণবিধি মেনে চলায় কেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা খুব কম হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভেজাল ধরা পড়লে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না এবং প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করার কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ