হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি–জামায়াত উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২১-০৫-২০২৬ ০৬:৪৯:০৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২১-০৫-২০২৬ ০৬:৪৯:০৮ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার সাঁথিয়ায় একটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সাঁথিয়া পৌরসভাধীন ইছামতী নদীর তীরে ডাইকের পাশে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে এ আদেশ জারি করা হয় বলে জানান সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না।
তিনি বলেন, “নদীর ডাইকের পাশে এখনো কোনও পক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়নি। হাটকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় জনস্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, নদীর তীরে ডাইকসংলগ্ন পরিত্যক্ত জায়গায় একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেয় পৌর প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের অনুমতি মেলার পর মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়।
২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তবে নিলাম চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিফ রায়হান কার্যক্রম স্থগিত করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পুনরায় নিলামের ডাকা হলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবার বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিলাম বর্জন করে হলরুম থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় এদিন বেলা ১১টা থেকে ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন।
সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসানের অভিযোগ, “পশুর হাট নিয়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হলেও প্রশাসনের কিছু মহলের যোগসাজশে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
পাল্টা অভিযোগ করে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, “পৌর প্রশাসনের আহ্বানে আমরা নিলামে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমাদের গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ায় নিলাম বর্জন করতে বাধ্য হই।”
সাঁথিয়া পৌরসভার বোয়াইলমারী হাটের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘‘ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে কোনও অস্থায়ী হাট বসবে না। আগামী সোমবার থেকে বোয়াইলমারী পেঁয়াজ হাটেই পশুর হাট বসানো হবে।’’
ইউএনও রিজু তামান্না বলেন, ‘‘১৪৪ ধারা বলবৎ থাকাকালীন ওই এলাকায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন, লাঠিসোঁটা বা দেশি অস্ত্র প্রদর্শন, মাইকিং, সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স