আজ বিদ্যুতের দামবৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানি
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২০-০৫-২০২৬ ১১:২৪:২৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৫-২০২৬ ১১:২৪:২৫ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
জ্বালানি সংকট, ভর্তুকির চাপ আর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা গিয়ে পড়ছে গ্রাহকের ঘাড়ে। তেল ও এলপিজির দাম বৃদ্ধির পর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে আজ বুধবার (২০ মে) থেকে। পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর আজ ও কাল (বুধ ও বৃহস্পতি) গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা হচ্ছে—গণশুনানির পর প্রায় প্রতিবারই বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। ফলে এবারও দাম বৃদ্ধি প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন তারা।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি, উৎপাদন ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই এই মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, উচ্চ ব্যয়ের প্রকল্প ও জ্বালানি নির্ভরতার দায় এখন সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোও সেই প্রস্তাবের সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়ে আনুপাতিক হারে দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।
বর্তমানে পিডিবির প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ প্রায় ১২ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করে প্রায় ৭ টাকায়। ফলে প্রতি ইউনিটে সরকারকে প্রায় সাড়ে পাঁচ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকায়।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, বিদ্যুতের বর্তমান খুচরা মূল্য ইউনিটভেদে নির্ধারণ করা হয়। এখন শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা। ৫১ থেকে ৭৫ ইউনিটে ৫ টাকা ২৬ পয়সা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটে ৭ টাকা ২০ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে প্রতি ইউনিটের দাম ১৪ টাকা ৬১ পয়সা। এর সঙ্গে ভ্যাট, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য চার্জও যুক্ত হয়।
তবে বিইআরসি সূত্র বলছে, লাইফলাইন গ্রাহক, অর্থাৎ যারা মাসে ৭০ থেকে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের আপাতত বাড়তি মূল্যচাপের বাইরে রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।
এদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সঞ্চালন চার্জও প্রতি ইউনিটে আরও ১৬ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী শাহ আলম বলেন, আমরা এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছি। এ অবস্থায় দাম বাড়ানো হলে বিদ্যুতের বাড়তি বিল দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। ফলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের সংকট আরও বাড়বে।
একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানালেন লালমাটিয়ার বাসিন্দা শামিমা আক্তার। তিনি বলেন, সরকার কয়দিন আগেই তেল ও এলপিজির দাম বাড়ালো। এখন আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ালে আমরা যাবো কোথায়? কীভাবে চলবো? আমাদের আয় বাড়েনি, কিন্তু খরচ বেড়েই চলছে। এসব কিছু সরকারের বিবেচনা করা উচিত।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘‘দীর্ঘদিনের লুটপাট, উচ্চ ব্যয় ও অদক্ষতার দায় এখন সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হচ্ছে।’’ তার মতে, বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না করে বারবার দাম বাড়ানো হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, সরকারের এই ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। এ জন্য সরকারকে বিদ্যুতের দাম কিছুটা বাড়াতে হবে। তবে এভাবে দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি বন্ধ করা সম্ভব না। এ জন্য সরকারকে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে।
বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রথমে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়। পরে অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতেই গণশুনানির তারিখ ২০ ও ২১ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। গণশুনানিতে পাওয়া মতামত যাচা-বাছাই এবং বিইআরসির কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পরই বলা যাবে বিদ্যুতের দাম বাড়বে কিনা।
সূত্র: কালবেলা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স