প্রথম ইনিংসে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা বাংলাদেশকে কিছুটা চাপে ফেলেছিল। তবে সেই ধাক্কা সামলে দাঁড়ান লিটন দাস। তার দারুণ সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পায় টাইগাররা। এরপর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংস শেষে লিডও তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে আরও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন। বিশেষ করে মুশফিকুর রহিম ছিলেন অসাধারণ। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের ভিত পায় দল। শেষ পর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তোলে ৩৯০ রান।
দুই ইনিংস মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে এখন ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য। এই রান তাড়া করে জিততে হলে ইতিহাসই গড়তে হবে সফরকারীদের। কারণ টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড ৪১৮ রান, যা গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১৫৬ রানের লিড নিয়ে সোমবার (১৮ মে) তৃতীয় দিন খেলতে নামে বাংলাদেশ। আগের দিন মুমিনুল হক মাঠ ছাড়তেই দিনের শেষ ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৩ রানে অপরাজিত থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ক্রিজে নামেন মুশফিকুর রহিম।
দিনের পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশ উইকেট হারায়। শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রান করে খুররম শাহজাদের কাছে এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নিয়েও টিকতে পারেননি অধিনায়ক। ক্রিজে নামেন লিটন দাস। ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে তার সিঙ্গেলে বাংলাদেশ লিড নেয় ২০০ রানের। দুজনে মিলে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে প্রথম সেশন শেষ করেন। লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ছিল ২৪৯ রানের।
লাঞ্চের পর চতুর্থ বলেই লিটন দাস পেয়ে যান ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। ৫৪ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলে সর্বোচ্চ রান করলেন ডানহাতি ব্যাটার। এতদিন এক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৯৩ রান করেছিলেন লিটন, ২০২২ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুরে। ওইবার প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ১৪১ রান করেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২ রান। লিটন এই টেস্টে ১৯৪ রান করার পর মুশফিকুর রহিম ১০৩ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৩০তম ফিফটি করেন। এরপর ধীরে ধীরে ১৩৭ রান করে থামেন মুশি। বাংলাদেশের ইনিংসও শেষ হয়। এখন বোলাররা ঠিকঠাক তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারলেই সহজেই পাকিস্তানকে হারিয়ে আরও একটি জয়ের স্বাধ পাওয়া যাবে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
সেঞ্চুরির রেকর্ড মুশফিকের