ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ , ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ বিমান কিনবে চীন

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০২:৪৩:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০২:৪৩:১৩ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ বিমান কিনবে চীন ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ২০০টি উড়োজাহাজ কিনতে চীন রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভবিষ্যতে এই ক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে সর্বোচ্চ ৭৫০টিতে দাঁড়াতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কেনা হতে যাওয়া এসব বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জিই অ্যারোস্পেস’-এর তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে।  কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়। 

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন রাষ্ট্রপতির সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই বড় চুক্তির খবর দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০০টি বিমান রয়েছে। এগুলো যদি ভালো পারফর্ম করে, তবে অর্ডারের সংখ্যা ৭৫০টি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’ তবে কোন মডেলের বিমান কেনা হচ্ছে কিংবা কবে নাগাদ এগুলো সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

চীনা সরকার কিংবা বোয়িং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলে তা সংকটে থাকা বোয়িংয়ের জন্য বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের বিশাল বাজারে মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল।

সম্প্রতি বেইজিং সফরে যাওয়া মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেলি অর্টবার্ট। ওই সফরে চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বিক্রির জন্য জোর তৎপরতা চালানো হয়। তবে ট্রাম্পের ঘোষিত এই ২০০টি বিমানের মধ্যে কতগুলো একদম নতুন অর্ডার এবং কতগুলো আগের পুরোনো অর্ডারের অংশ, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, অতীতেও পশ্চিমা দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সফরের সময় নতুন অর্ডারের পাশাপাশি পুরোনো প্রতিশ্রুতিগুলোকেও একসঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে ঘোষণা করার নজির রয়েছে বেইজিংয়ের।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় অর্ডার চীনের দ্রুত বাড়তে থাকা বিমান পরিবহন খাতের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে চীনের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সিওএমএসি-এর তৈরি ‘সি৯১৯’ উড়োজাহাজের উৎপাদন এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারায় চীনকে বিদেশি বিমানের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া এই চুক্তি বোয়িংকে তাদের প্রধান ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ব্যবধান কমাতেও সাহায্য করবে। গত কয়েক বছরে চীনের বাজারে এয়ারবাস বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে।

উড়োজাহাজ খাতভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইবিএর হিসাব অনুযায়ী, যদি এই অর্ডারের ৮০ শতাংশই বোয়িংয়ের ‘ম্যাক্স’ সিরিজের বিমান হয়ে থাকে, তবে ২০০টি বিমানের সম্ভাব্য বাজারমূল্য হতে পারে ১৭ থেকে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিপুল অঙ্কের এই চুক্তি মার্কিন অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন  


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ