ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম, দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০১:৫৯:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০১:৫৯:৪০ অপরাহ্ন
​নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম, দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা ​ছবি: সংগৃহীত
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, টানা বৃষ্টি ও নদীর বাঁধ ভেঙে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক পানিবৃদ্ধিতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল। এতে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা।

বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টা পর্যন্ত হালুয়াঘাট উপজেলার মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া ও মহাজনীকান্দাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়।

এ ছাড়া পাশের ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ও গামারীতলা ইউনিয়নের কামালপুর, রায়পুর এবং বাঘবেড় ইউনিয়নের মেকিয়ারকান্দা ও দক্ষিণ ডোমঘাটাসহ কয়েকটি এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মঙ্গলবার (১২ মে) রাত থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। অতিরিক্ত পানির চাপে বুধবার সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে দ্রুত আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি ছড়িয়ে পড়ে।

একই দিন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গৌরিপুর এলাকায় নেতাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে নতুন নতুন এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এতে ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য, হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতিতে পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হালুয়াঘাট উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। ধোবাউড়ার কয়েকটি গ্রামের ফসলও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভারি বর্ষণের কারণে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কাঁচা সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ