শ্রমিক সংকটে মাঠেই ঝুঁকিতে পাকা ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১১-০৫-২০২৬ ০৫:৪২:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১১-০৫-২০২৬ ০৮:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বোরো মৌসুমে চারদিকে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকের স্বপ্নের ফসল দোল খেলেও সেই ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।
শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত মজুরি এবং টানা বৃষ্টির কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পারায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পাকা ধান মাঠেই ফেলে রাখছেন। এতে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা কালবৈশাখীর আশঙ্কায় লোকসানের ভয় আরও বেড়ে গেছে।
উপজেলার শাহজাহানপুর, বাঘাসুরা, জগদীশপুর, আদাঐর, নোয়াপাড়া ও ধর্মঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর ও নিচু এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ধান পুরোপুরি পেকে গেলেও শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছেন না কৃষকরা। অনেক এলাকায় বাইরের শ্রমিক না আসায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
কৃষকরা জানান, আগে স্থানীয় শ্রমিক দিয়েই সহজে ধান কাটা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিক ইটভাটা, শিল্পকারখানা কিংবা শহরমুখী হওয়ায় কৃষিকাজে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যারা কাজ করছেন তারাও দৈনিক ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দাবি করছেন। এতে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, তার মতো অনেক কৃষকের জমির ধান পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় কাটতে পারছেন না। কয়েকদিন ধরে খুঁজেও শ্রমিক মিলছে না। ঝড়-বৃষ্টি হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
নিচু জমিতে হারভেস্টার মেশিনও যেতে পারে না। গত ১০ দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে আছে। এখন ৩০ শতক বা এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
একই অভিযোগ করেন জগদীশপুর এলাকার কৃষক ছাদেক মিয়া। তিনি বলেন, শ্রমিক পেলেও অতিরিক্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। ধানের বাজারদর অনুযায়ী এত খরচ বহন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
চৌমুহনী এলাকার কৃষক সমুজ আলী বলেন, ধান নিয়ে কৃষকরা এখন বড় বিপদে আছেন। এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা ধান চাষাবাদ থেকে ধীরে ধীরে সরে যেতে বাধ্য হবে।
কৃষকদের এমন দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, এ বছর উপজেলায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে কিছু এলাকায় ধান কাটায় বিলম্ব হচ্ছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে উপজেলায় কয়েকটি কম্বাইন হারভেস্টার কাজ করছে। কৃষকদের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তবে অধিকাংশ বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স