মবের চাপে পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দিতে বাধ্য হয়েছিল: ইমি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৭-০৫-২০২৬ ০৭:১৪:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৫-২০২৬ ০৭:১৫:৩০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
দুই মাস কারাভোগের পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
কারামুক্ত হয়ে ইমি সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, ‘মবের চাপের মুখে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বাধ্য হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ আমাদের পেটানো হলো। আমাদের ওপর হামলা করল।আমাদের পুলিশে দিল। আমরা সেদিন কী সন্ত্রাসের কাজটা করছিলাম?’
ইমি আরো বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, আমাকে তো পুলিশ প্রথমে গ্রেপ্তার দেখাতে চায়নি। আমাকে তারা হেফাজতে রাখতে চেয়েছিল। তবে বৈষম্যবিরোধীরা, ছাত্রশিবির এবং শিবিরের আরো বিভিন্ন দোকান যখন থানাতে মব করল, তখন তারা (পুলিশ) বাধ্য হলো গ্রেপ্তার দেখাতে।’
সরকারের চেয়ে বিরোধী দল বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে গেলে বা বেশি ক্ষমতার চর্চা করতে থাকলে দেশের নিরাপত্তার জন্য তা বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন ইমি।
চলতি বছরের ৭ মার্চ বিকেলে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় সাউন্ড বক্সে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক আসিফ আহমেদ সৈকতকে আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশ। আটকের প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে রিকশায় মাইকে ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজন। এ সময় ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা দেয়।
একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী রিকশাসহ শেখ তাসনিম আফরোজ ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে জোর করে ধরে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। এ সময় থানার ভেতরেই আবদুল্লাহ আল মামুনকে মারধর করা হয়।
পরদিন ৮ মার্চ তাদের তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটি শাহবাগ থানা পুলিশই দায়ের করে। মামলার এজাহারে বলা হয়, জাতীয় জাদুঘরের ১ নম্বর গেটের সামনে আবদুল আল মামুন ও ইমির নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়ো হন। সে সময় শাহবাগ থানা মসজিদে তারাবির নামাজ চলছিল। তারা মসজিদের দিকে মুখ করে লাউড স্পিকারে উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম সচলের চেষ্টা করেন। ইমি এরপর কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
৫৩ দিন কারাগারে থাকার পর জামিন চেয়ে ইমির করা আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩০ এপ্রিল রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন।
ইমির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নোমান হোসাইন জানান, ৭ মার্চের ভাষণ দলীয় স্লোগান নয় কিংবা নিষিদ্ধ কিছু নয়— মূলত এই যুক্তিতে জামিন চাওয়া হয়। হাইকোর্টের আদেশের ফলে ইমির কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা ছিল না। অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার জামিননামা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি কারামুক্ত হন।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স