শাপলা চত্বরে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৫-০৫-২০২৬ ০৩:০১:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-০৫-২০২৬ ০৪:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাদের সবার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ঢাকায় দিনের বেলা ও রাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পরদিন নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের মূলপরিকল্পনাকারী হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের মামলায় ৯০ শতাংশ তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে প্রসিকিউশন। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্তত ৩০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডে মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম আসবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে আমরা আসামির নাম প্রকাশ্যে আনছি না। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন হত্যাকাণ্ডের সময় মিশনে ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার বিষয়ে তদন্ত হবে। কারণ দূরে থেকেও পরিকল্পনায় অংশ নেয়া ও নির্দেশ দেয়া যায়।
২০১৩ সালের ৫ মে পবিত্র কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ এবং ১৩ দফা দাবিতে ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি দেয় হেফাজতে ইসলাম। ওই কর্মসূচিতে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমবেত হন।
ঘটনার দিন এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। রাতের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ফলে এলাকা ফাঁকা হয়ে যায় এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়। ২০২৫ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম নিহতদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ২০২১ সালে এক প্রতিবেদনে ৬১ জনের নাম সংগ্রহের কথা জানায়।
শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা চলমান। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের আশা, চলমান বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স