বুক সমান পানিতে নেমে ফসল বাঁচাতে মরিয়া কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-০৫-২০২৬ ০৩:৪৫:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-০৫-২০২৬ ০৩:৪৫:১৭ অপরাহ্ন
ফোকাস বাংলা নিউজ
কোষা নৌকা নিয়ে হাওরের বুকে তলিয়ে যাওয়া সোনালী ধান বাঁচাতে মরিয়া ১০থেকে ১২ কৃষক। বুক পানিতে নেমে পানির নিচে অনুমান করে কাটছে ধান। একদিকে বৃষ্টি অপর দিকে হাওরের বাতাস। কঠিন এই পরিস্থিতিতে ফলানো ফসল ঘরে তুলতে চালিয়ে যাচ্ছেন সংগ্রাম। এমন চিও হাওর বেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওরে। তাদেরই একজন কৃষক জালাল উদ্দিন।
এই মেদির হাওরে তিনি ১২ কানি বোরো আবাদ ধান রোপন করেছিলেন। ফসল পাকার শেষ মহূর্তে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস হচ্ছে কৃষি। চোখের সামনেই সব শেষ হয়ে গেছে। পানির নিচে ধান। কিন্তু কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক পাওয়া গেলেও টাকা নিচ্ছে দ্বিগুন। ১২ কানির মধ্যে তিন কানির জমির ধান কর্তন করেছি। বাকি অবশিষ্ট নষ্ট হয়ে যাবে।
অপর কৃষক নূর আলম বলেন, ঋণ করে ধানি জমি করেছিলাম। ফলন ভাল হয়েছিল। বিক্রি করে লাভবান হতাম। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে আমার সব ধান তলিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে দুচিন্তায় পড়েছি। সরকার যদি সহযোগীতা করে।
কৃষক আহাদ আলী বলেন, শ্রমিক সংকটের কারনে ধান কাটতে পারছি না। একমণ ধান বিক্রি করলে যে টাকা পাওয়া যাবে তার থেকে শ্রমিকের টাকা বেশী দিতে হয়। পানির নিচ থেকে যে ধান কেটে ছিলাম তা আবার বৃষ্টি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়েছে বিস্তীর্ণ হাওর। এতে উপজেলার মেদির হাওর, মাছমা হাওর, চিনাকান্দি হাওর, বড়কান্দি হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে কৃষকের ফলানো ফসল এখন ক্ষতির মুখে। কেউ কেউ কোমর পানি আবার কেউ বুক পানিতে নেমে ধান কাটছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরে ১১০০০ হেক্টর জমিতে করা হয় বোরোর আবাদ। ইতোমধ্যে হাওরে আবাদকৃত ৭৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, দুদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হাওরের পানি কিছুটা কমেছে। ধান কাটা অব্যাহত থাকায় তলিয়ে যাওয়া ৩০ শতাংশ জমির মধ্যে নতুন করে দশ শতাংশ জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমান কমে আসবে। ক্ষতির মুখে থাকা কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স