শ্যামনগরে মাছের ঘের থেকে রান্না করা হরিণের মাংস উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ০৩:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ০৩:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে রান্না করা হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার রাতে ওই ঘেরে দেখা যায় হরিণের মাংস রান্না শেষ। তখনো ধোঁয়া উড়ছে। চলছে খাওয়ার প্রস্তুতি।
বন বিভাগের সদস্যদের আগমনের খবর পেয়ে যারা খাবার আয়োজন করেছিল তারা মাংস রেখে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে প্রায় ১০ কেজি রান্না করা হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘেরে কিছু বহিরাগত শ্রমিক কাজ করছে। প্রতি রাতে সেখানে উৎসব হয়, প্রচুর রান্না করে খাওয়াদাওয়া হয়। বাইরে থেকেও অনেকে আসেন। প্রায়ই মাংস রান্না করা হয়। কিসের মাংস, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারতেন না। বন বিভাগের অভিযানে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে তাঁরা হরিণের মাংস রান্না করছিলেন।
ঘের মালিক শেখ মিজানুর রহমান বলেন, তাঁর ঘেরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন, যাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি পরিচয় নেই। শ্রমিকেরা নিজেরাই বাজার করেন ও রান্না করে খান বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগ কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে রান্না করা প্রায় ১০ কেজি পরিমাণ হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনের আওতায় হরিণ শিকার ও মাংস ভক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্য প্রাণী ও সুন্দরবন রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান।
তিনি বলেন, বন্যপ্রাণি হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। না হলে হরিণ নয়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স