রূপপুর থেকে কি পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব?
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ১২:২৯:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ১২:২৯:১৭ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই খবরের পর অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই ইউরেনিয়াম দিয়ে কি পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব? বিষয়টি সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করা যাক।
ইউরেনিয়াম কী?
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হোক বা বোমা, দুটির মূল উপাদানই ইউরেনিয়াম। প্রকৃতিতে পাওয়া ইউরেনিয়ামে প্রধানত দুটি ধরনের পরমাণু থাকে ইউ-২৩৮ ও ইউ-২৩৫। এর মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই ইউ-২৩৮, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ততটা কার্যকর নয়। কার্যকর অংশটি হলো ইউ-২৩৫, যার পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।
এই অল্প পরিমাণ ইউ-২৩৫ ব্যবহারোপযোগী করতে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, তাকে বলা হয় ‘সমৃদ্ধকরণ’। বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ইউরেনিয়ামকে ঘুরিয়ে হালকা ইউ-২৩৫ আলাদা করে তার ঘনত্ব বাড়ানো হয়।
বিদ্যুৎ বনাম বোমা : পার্থক্য কোথায়?
ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধতার মাত্রাই ঠিক করে দেয় তা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হবে, নাকি বোমা তৈরিতে। রূপপুরের মতো বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়। এতে নিয়ন্ত্রিতভাবে শক্তি উৎপন্ন করে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়।
অন্যদিকে, বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়ামকে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়। এই মাত্রার ইউরেনিয়ামকে অস্ত্রমানের বলা হয়। ৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর একটি প্রক্রিয়া, যা রূপপুরে নেই।
রূপপুরে আসলে কী ঘটে?
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়ামের পরমাণু বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করা হয়। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘোরায় এবং বিদ্যুৎ তৈরি হয়। এটি একটি ধীর, নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে, বোমায় একই শক্তি এক মুহূর্তে মুক্ত করে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। রূপপুরে এমন কোনো প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা নেই।
আন্তর্জাতিক নজরদারি
রূপপুর প্রকল্প আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার কঠোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। রাশিয়া থেকে আনা প্রতিটি জ্বালানির হিসাব রাখা হয়। বাংলাদেশ এই জ্বালানি কেবল বেসামরিক কাজে ব্যবহার করবে, এমন চুক্তিও রয়েছে। ফলে এখান থেকে গোপনে অস্ত্র তৈরি করা বাস্তবে অসম্ভব।
অর্থাৎ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনোভাবেই পরমাণু বোমা তৈরির জন্য ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এটি দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানোর জন্য একটি আধুনিক ও নিরাপদ জ্বালানি প্রকল্প। সূত্র: কালবেলা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স