ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৫-০৪-২০২৬ ০৪:০০:১৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৫-০৪-২০২৬ ০৪:০০:১৬ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে  ডায়রিয়া ফোকাস বাংলা নিউজ
প্রচন্ড গরমে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় শিশু ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলাতে বাড়ছে ডায়রিয়ায় শিশুর রোগীর সংখ্যা।

শিশু বিষেশজ্ঞরা বলছন, তীব্র গরমে শিশুদের শরীর পানি স্বল্পতা দেখা দেয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎকরা।

সাতক্ষীরা জেলার সকল উপজেলা কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিক এবং হাসপাতালগুলোত ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। 

শনিবার সরজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ড গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন এলাকা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয় চিকিৎসা নিচ্ছে।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধূ ময়না খাতুন বলেন , তার ১১ মাস বয়সের শিশু আরফান আরিফ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে সকালে হাসপাতাল ভর্তি করন। স্যালাইন ব্যতিত অন্যান্য ওষুধ হাসাপাতালর বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়েছে বলে জানান‌ এই গহবধূ।

এই দিন তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রাম থেকে আসা গহবধু পাপিয়া খাতুন তার ১০ মাস বয়সর শিশু ছেলে রাহিল হাসানকে সদর হাসপাতাল ভর্তি করেন ডায়রিয়া ওয়ার্ড।

তিনি বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডর পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। তাছাড়া অধিকাংশ ওষুধ হাসাপাতালর বাইরে থকূ কিনতে হয়েছে। এখান স্যালাইন ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।

সাতক্ষীরা সদর এবং মেডিকেল কলেজ ও বসরকারী শিশু হাসপাতালর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত ৫০ দিন এই তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৭১৮ জন।

এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এক হাজার জন, সদর হাসপাতাল ৫৭৭ জন এবং বেসরকারি শিশু হাসপাতাল ১৪১ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় ভর্তি হয়েছে।

এছাড়া এসব হাসাপাতালে প্রতিদিন প্রচুর পরিমান ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু বহির্বিভাগেও চিকিৎসা দয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকরা।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিষেশজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা: মো: সামছুর রহমান জানান, আমাদের দেশে দশ সাধারণত মার্চ-এপ্রিল থেকে গরম শুরু হয়। এসময় শিশুদর শরীর পানি স্বল্পতা দেখা দেয়। এর ফলে শিশুরা ডায়রিয়া আক্রান্ত ছাড়াও জ্বর এবং বমি করে। এসময় শিশুদর মায়ের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া শিশুরা যেন কোনোক্রমেই পচাঁবাসি খাবার খেতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন গড় ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে মডিকল কলজ হাসপাতাল। এ হিসাব ১ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যান্ত আক্রান্ত ১ হাজারের উপর ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার  ডা: আব্দুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালর শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ড পর্যাপ্ত শয্যার ব্যবস্থা না থাকায়  থাকায় ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু  রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত শয্যার সংখ্যা বাড়ানার জন্য সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। 

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ