ঢাকায় ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং, গ্রামে ১৪ ঘণ্টা: রুমিন ফারহানা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৩-০৪-২০২৬ ০৭:২৬:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৪-২০২৬ ০৭:২৬:০৯ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ঢাকায় এক-দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকলেও গ্রামে ১৪ ঘণ্টা গড়ায়। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে এখন গ্যাস ছাড়া কারোর চুলা জ্বালানোর পথ নেই।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নিজের প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা আশুগঞ্জ একটা শিল্পনগরী। এখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎ, মিল, ফ্যাক্টারি আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যায় সারা দেশে, কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পায় না। তিসাস গ্যাস ফিল্ড বাংলাদেশের অন্যতম গ্যাস কেন্দ্র। এখান থেকে ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ হচ্ছে। অথচ আমার নির্বাচনি এলাকায় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। চুলা মিট মিট করে জ্বলে। এর পরে মন চাইলে এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে, তারপরে আর খবর নাই।
তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট আছে তারপরে শীতকালে চাহিদা আরও বাড়ে। অন্যদিকে আছে অবৈধ সংযোগ। ২০১৬ সাল থেকে বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ হলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাহায্যে এখনও বেশকিছু মানুষ অবৈধ সংযোগ নিয়ে রেখেছে। এতে করে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। যাদের বাড়িতে (বৈধ) লাইন আছে তারাও গ্যাস পাচ্ছে না। এখন এলপিজি ও বৈদ্যতিক চুলাই ভরসা।
আরও বলেন, আমাদের জীবনমান এতই উন্নয়ন হয়েছে যে গ্রামের মানুষ ফ্ল্যাটে থাকে, উঠান পাকা। মাটির চুলায় রান্না করা এখন বাস্তবতা বিবর্জিত। এক হাজার ৯০০ টাকার সিলিন্ডার ২২০০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। ঢাকায় এক দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকলেও গ্রামে ১৪ ঘণ্টা গড়ায়। গ্যাস ছাড়া চুলা জ্বালানোর পথ নাই। আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তার পরে অন্য জায়গায় যাবে।
সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুণিজনদের কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, মেঘনা-তিতাস পাড়ের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আলাউদ্দিন খাঁ, শচীন দেব বর্মনের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। কীর্তন আর বাউল গানের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ছানামুখী মিষ্টির অপরূপ স্বাদের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। দিগন্ত জোড়া হাওরের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আবার তুচ্ছ বিষয়ে টেঁটা নিয়ে মাঠে নামার দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। অলি আহাদ ও ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো সংগ্রামী চরিত্রের জন্ম এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। যাদের কল্যাণে বাংলা রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স