ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে চরাঞ্চলে ব্যাহত সেচ কার্যক্রম, ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০১:৩৯:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০১:৩৯:১৩ অপরাহ্ন
জ্বালানি সংকটে চরাঞ্চলে ব্যাহত সেচ কার্যক্রম, ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের সংকটে গাইবান্ধার তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিদ্যুৎবিহীন প্রায় দেড় শতাধিক চরাঞ্চলের কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ভরা মৌসুমেও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। জেলার শস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এসব বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন চরে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা পুরোপুরি নির্ভর করে কৃষির ওপর। তবে সেই ভরসার জায়গাতেই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের ব্যাংকার চরের কৃষক আবু জাফর তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান ও দুই বিঘায় ভুট্টার আবাদ করেছেন। কিন্তু সেচের জন্য প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পারায় ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে তার।
 
তিনি জানান, সময়মতো সেচ না দিতে পারলে ফসল ঠিকভাবে ফলবে না। স্থানীয় বাজারে তেল না পেয়ে শহরে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প পরিমাণ তেল পাওয়া যায়, যা দিয়ে একদিনের সেচও হয় না। তেল আনতে গিয়ে পুরো দিন নষ্ট হয়ে যায়, অনেক সময় খালি হাতেই ফিরতে হয়।
 
আবু জাফরের মতো একই সমস্যায় পড়েছেন চরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক। জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ডিজেলচালিত সেচ পাম্প। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব পাম্পই সেচের একমাত্র ভরসা। ফলে সময়মতো পানি না পেয়ে ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল ঝুঁকিতে পড়ছে। কোথাও কোথাও জমি ফেটে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনছেন কিংবা নদী পাড়ি দিয়ে শহরে গিয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। ভরা মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, এখন ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
 
ফুলছড়ির আলগার চরের কৃষক মঞ্জিল মিয়া জানান, চরাঞ্চলের হাটবাজারে এখন ডিজেল পাওয়া যায় না। কোথাও পাওয়া গেলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তেল আনতে শহরে যাওয়া-আসায় একশ টাকার বেশি খরচ হয়, তাতেও দিনে অন্য কোনো কাজ করা যায় না। লাইনে দাঁড়িয়ে যে তেল পাওয়া যায়, তা দিয়ে একদিনও চলে না।
 
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, দুর্গম চরাঞ্চলের বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন কৃষকদের সেচের একমাত্র মাধ্যম ডিজেলচালিত পাম্প। জেলার খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসব এলাকার কৃষকদের জন্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসন সার্বিক খোঁজখবর রাখছে।
 
চরাঞ্চলের এসব ফসল শুধু জেলার নয়, দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ