সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে ম্যারাথন দৌঁড়
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-০৪-২০২৬ ০২:১৭:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৪-২০২৬ ০২:১৭:১৭ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে সুপেয় পানির দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ম্যারাথন ‘রান ফর ওয়াটার-২.o’। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজার থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে গিয়ে শেষ হয় এই ম্যারাথন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুই শতাধিক তরুণ-তরুণী ও পরিবেশকর্মী উপকূলের মানুষের পানি সংগ্রহের সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলতে মাটির কলস নিয়ে এই ম্যারাথনে অংশ নেন। সুপেয় পানি নিশ্চিতের দাবিতে স্থানীয় যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম এই ম্যারাথনের আয়োজন করে।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একশনএইড বাংলাদেশ। এছাড়া ৩০টিরও বেশি যুব সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয়।
ম্যারাথনে প্রথম স্থান অধিকার করেন গাবুরার জি কে সাব্বির হোসেন, দ্বিতীয় হন বুড়িগোয়ালিনীর সাগর হোসেন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন সাতক্ষীরা সদরের ওয়াছিমুল ইসলাম তপু।
ম্যারাথন শেষে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর ডেপুটি ম্যানাজার (ইয়ুথ অ্যান্ড জাস্ট সোসাইটি) মুসতাহিদ জামি, ডেপুটি ম্যানাজার (পার্টনারশিপ এবং প্রোগ্রাম) আরিফ সিদ্দিকী, সিডোর প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ শাহিন আলম, বাধন সংস্থার প্রতিনিধি শেখ ইমরান ও এসসিএফ এর সহকারী নির্বাহী পরিচালক হাবিবুল্ল্যাহ আল মামুন।
তারা পানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বক্তারা বলেন, এই ম্যারাথন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি উপকূলীয় জনপদের পানির অধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির এক অনন্য প্রচেষ্টা।
আয়োজকেরা জানান, ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে তীব্র পানিসংকটে ভুগছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলীয় এই জনপদের বাসিন্দারা। তাই এই ম্যারাথন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং নিরাপদ পানির দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম বলেন, এই দৌড়ের মাধ্যমে আমরা স্থানীয়ভাবে যেমন সচেতনতা বাড়াতে চাই, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক নারীকে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয়, আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি কিনে ব্যবহার করেন। এই বাস্তবতা তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স