কৌশলী ইরান, লেগো ভিডিওর ঝড়ে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৮-০৪-২০২৬ ০৪:৫৭:০৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৪-২০২৬ ০৪:৫৯:১১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত গণমাধ্যমের বয়ান নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় সেই বয়ান নিয়ন্ত্রণে দেশটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
প্রথাগত গণমাধ্যমে প্রভাব থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে ইরানপন্থি কিছু গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তুলে ধরছে।
বিশেষ করে লেগো ভিডিওর আদলে তৈরি ধারাবাহিক অ্যানিমেশন কনটেন্টের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত কর্মকাণ্ড নতুনভাবে উপস্থাপন করছে।
এমনই একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চাঁদের আলোয় আলোকিত এক ঊষর প্রান্তরে ঘোড়ায় চড়ে প্রবেশ করছেন এক আদিবাসী আমেরিকান নেতা। এরপর একে একে শিকলবন্দি কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান থেকে শুরু করে ইরাকের কুখ্যাত আবু গারিব কারাগারের নির্যাতিতদেরও দেখা মেলে।
এরপর দৃশ্যপটে ইরানি সেনারা হাজির হন। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে বড় বড় ব্যানার লাগাতে দেখা যায়। এর মধ্যে প্রথম ব্যানারে লেখা থাকে ‘অপহরণ হওয়া কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য’। এরপর আরেকটি ব্যানারে আসে ‘হিরোশিমা ও নাগাসাকির মানুষের জন্য’।
এ ছাড়া বার্তায় আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভুক্তভোগীদের কথা উল্লেখ করা হয়। ভিডিওর শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিশাল মূর্তি ভেঙে পড়তে দেখা যায়। পর্দায় ভেসে ওঠে বড় অক্ষরে লেখা ‘সবার জন্য একটিই প্রতিশোধ’।
গত ২৯ মার্চ প্রকাশিত এই ভিডিওটি ইরানভিত্তিক ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’র তৈরি। এসব ভিডিওর মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেহরানের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নামে ওই গ্রুপটি গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানায়, ‘ভায়োলেন্ট কন্টেন্ট’ তথা ‘সহিংস বিষয়বস্তু প্রকাশের’ অভিযোগে ইউটিউব তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। তবে গ্রুপটির অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলো সচল রয়েছে।
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়ার মুখপাত্র জানান, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের গ্রাহকদের মধ্যে অন্যতম। তবে তিনি দাবি করেন, দলটি স্বাধীনভাবে কাজ করে।
এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া একা নয়। পার্সিয়াবয় ও সাউদার্ন পাঙ্কসহ আরও অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর একই ধরনের লেগো-থিমের ভিডিও তৈরি করেছেন।
ইসলামাবাদভিত্তিক সামাজিক বিশ্লেষক ফাসি জাকা বলেন, এসব ভিডিওতে গভীর প্রতীকী অর্থও রয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মিনাব এলাকার একটি মেয়েদের স্কুলে বোমা হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেখানে ১৬০ জনের বেশি ইরানি স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুই হয়েছিল ইরানি শিশুদের ওপর এক ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে। তাই লেগোর মতো একটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত শিশু-কেন্দ্রিক ব্র্যান্ড ও ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করার মাধ্যমে এই বার্তাগুলো এক ধরনের আবেগঘন সংযোগ তৈরি করে।
সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স