ঢাকা , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানহীন বিমানবন্দরে বছরে আয় কোটি টাকা!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ০৪:১১:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ০৪:৪৫:৩০ অপরাহ্ন
বিমানহীন বিমানবন্দরে বছরে আয় কোটি টাকা! ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় বিমানবন্দর, রানওয়ে, টার্মিনাল, জনবল ও অবকাঠামো সবই আছে; কিন্তু নেই শুধু যাত্রীবাহী বিমান চলাচল। প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ থাকা দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক এই বিমানবন্দর কোনো ফ্লাইট ছাড়াই শুধু আকাশপথের নির্দেশনা সেবা দিয়ে প্রতি বছর আয় করছে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। শিল্পাঞ্চল, রফতানি, প্রবাসী কর্মী ও রেমিট্যান্সসমৃদ্ধ জেলার বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বন্ধ অবস্থায় যদি এত আয় হয়, তবে চালু হলে কতদূর যেতে পারে এই বিমানবন্দর?
 
শহরের দক্ষিণে প্রায় ৭৭ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত কুমিল্লা বিমানবন্দর আজ যেন থেমে থাকা সম্ভাবনার প্রতীক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১-৪২ সালে ব্রিটিশ ও মার্কিন বাহিনী সামরিক কাজে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করত। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল করে। পরে লোকসানের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৯৪ সালে নতুন আশায় পুনরায় চালু করা হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। তারপর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে নীরব পড়ে আছে কুমিল্লা বিমানবন্দর। তবে ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও থেমে নেই এর কার্যক্রম। বর্তমানে এখানে থাকা নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আকাশপথে চলাচলকারী উড়োজাহাজকে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।
 
কুমিল্লা বিমানবন্দরের সিএনএস প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘বিমানবন্দরে থাকা ডিভিওআর, ডিএমই এবং ভিস্যাট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ সেবা নিচ্ছে। এই সেবা থেকেই প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে; যা থেকে সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাচ্ছে।’
 
কুমিল্লা বিমানবন্দরের পাশেই অবস্থিত কুমিল্লা ইপিজেড; যেখানে ৪৬টি দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক। গত বছর এখান থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৯০২ মিলিয়ন ডলার। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আয় হয়েছে ৬১৯ মিলিয়ন ডলার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। দ্রুত কার্গো পরিবহন সুবিধা তৈরি হবে, কমবে সময় ও ব্যয়, বাড়বে শিল্পায়নের গতি।
 
প্রবাসী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুমিল্লা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা থেকে বিদেশগমন করেছেন ২০২১ সালে ৬৮ হাজার ৫৮৬ জন, ২০২২ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৭ জন, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২০ জন, ২০২৪ সালে ৯২ হাজার ৯১১ জন এবং ২০২৫ সালে ৭৬ হাজার ৪৫৮ জন।
 
প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ কাজের সন্ধানে বিদেশে গেলেও তাদের যাত্রা শুরু করতে হয় ঢাকা, সিলেট বা চট্টগ্রাম থেকে। এতে বাড়ে সময়, খরচ ও দুর্ভোগ। স্থানীয়দের দাবি, নিজ জেলায় বিমানবন্দর চালু হলে শুধু যাত্রীসেবা নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতেই বড় পরিবর্তন আসবে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু করা গেলে এটি হতে পারে পূর্বাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র। শিল্প, রফতানি, কার্গো, পর্যটন ও প্রবাসী যাত্রা সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। আরও সমৃদ্ধ হবে কুমিল্লার অর্থনীতির চাকা।
 
যে বিমানবন্দর উড়োজাহাজ ছাড়াই আকাশপথ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে, যে বিমানবন্দর বন্ধ থেকেও আয় করছে কোটি টাকা, সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কত বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে কুমিল্লা, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে সবার মুখে। সম্ভাবনার এই রানওয়ে আর কত দিন নীরব থাকবে, তার উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন কুমিল্লাবাসী।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ