পাম্পে মোটরসাইকেল রেখে চালক উধাও
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৭-০৪-২০২৬ ০২:৪১:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৭-০৪-২০২৬ ০২:৪১:২৯ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
সারা দেশের মতো রংপুরেও জ্বালানি তেলের সংকট ঘিরে ফিলিং স্টেশনগুলোয় ঘটছে নিত্যনতুন ঘটনা। কখনো তা দুর্ভোগের, কখনো বা হাতাহাতির, আবার কখনো হতাশার। পাশাপাশি ঘটছে নানা রকম মজার ঘটনাও।
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বর এলাকার মেসার্স ইউনিক ফিলিং স্টেশনে। এখানে জ্বালানি তেল নিতে এসে লাইনে একটি মোটরসাইকেল রেখে ১২ দিন ধরে উধাও চালক। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও চালকের সন্ধান না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ফিলিং স্টেশনটিতে গিয়ে চোখে পড়ে চালকবিহীন বেওয়ারিশ মোটরসাইকেলটির। এটি টিভিএস কোম্পানির মেট্রো প্লাস মডেলের। গাড়ির নম্বর ‘রংপুর মেট্রো-হ ১১-০৫৭২।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোটরসাইকেলটি গত ৫ এপ্রিল তেল নিতে এসে রেখে গেছেন এক চালক। এরপর ১২ দিন অতিবাহিত হলেও দেখা মেলেনি মালিকের। এখন সঠিক মালিকের হাতে মোটরসাইকেলটি তুলে দিতে পারলেই দায়মুক্ত হন ফিলিং স্টেশনের বিক্রয় কর্মীরা।
ফিলিং স্টেশনের বিক্রয় কর্মী আলমগীর ইসলাম বলেন, গত ৫ এপ্রিল তেল বিক্রি শুরু হলে দেখি লাইনে একটি মোটরসাইকেল রাখা, কিন্তু চালক নাই। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়িটির মালিক না আসায় লাইনে সমস্যা তৈরি হয়। অন্য চালকদের অসুবিধা হওয়ায় আমরা সবাই মিলে সেটিকে সরিয়ে রাখি। গভীর রাতে পাম্প বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময়ও দেখি মোটরসাইকেলটি সেখানেই আছে। এমনকি পরদিন সকালেও সেখানেই ছিল মোটরসাইকেলটি। পরে আমরা পাহারাদারদের জিম্মায় রাখি। তবে ১২ দিন পেরিয়ে গেলও মালিককে পাওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিং স্টেশনটির আরেক কর্মচারী বিপ্লব ইসলাম বলেন, আমরা সিসিটিভিতে অনেক খোঁজার চেষ্টা করছি চালককে। কিন্তু সমস্যা হলো ওই চালক এমন জায়গায় গাড়িটি রেখেছিল যে, আমাদের সিসিটিভি ওই পর্যন্ত তা ধারণ করতে পারেনি। কোনো মালিক না পাওয়ায় আমরা বিপাকে পরেছি। এখন সঠিক মালিকের হাতে গাড়ি তুলে দিতে পারলেই বাঁচি।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, মোটরসাইকেলটি নিয়ে অসুবিধার মধ্যে আছেন তারা। সঠিক মালিককে পেতে প্রচারও চালাচ্ছেন।
এদিকে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষমাণ চালকরা বলছেন, প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়। মাঝে মাঝে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল মেলে না। এর চেয়ে মোটরসাইকেল না চালানোই ভালো। যে ব্যক্তি গাড়ি রেখে গেছেন, তিনি হয়তো অনেক বিরক্ত হয়েই এই কাজ করেছেন।
রংপুর পেট্রোল পাম্প ডিলারর্স, এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম মিন্টু বলেন, আমরা প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেলও পাচ্ছি না। রংপুরে ৪৮টি পাম্প থাকলেও তেল সংকটের কারণে প্রায় ৩০টি পাম্পই প্রতিদিন বন্ধ থাকছে। একইসঙ্গে বাইরের জেলাগুলোয় তেল সরবরাহ একেবারে না থাকায় জেলার বাইরে থেকেও চালকরা আসছে রংপুর। যে কারণে সংকট আরও বাড়ছে। সব পাম্পেই প্রতিদিন যদি কিছু করে তেল দেয়া যেত, তাহলে সংকট অনেকটা কেটে যেত।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স