ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​টিকা আছে, ‘সিরিঞ্জ নেই’

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ০১:২০:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৪-২০২৬ ০১:২০:১৫ অপরাহ্ন
​টিকা আছে, ‘সিরিঞ্জ নেই’ ​ছবি: সংগৃহীত
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব সামলাতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে ‘বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি’; এর জন্য পর্যাপ্ত টিকা মজুদ থাকলেও সংকট তৈরি হয়েছে সিরিঞ্জের। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে ২ কোটি ডোজ হামের টিকা থাকলেও ‘মিক্সিং সিরিঞ্জ’ রয়েছে ৪৫ হাজার। এ পরিমাণ সিরিঞ্জ আপাতত ক্যাম্পেইন চালানোর মতো হলেও মজুদ টিকার তুলনায় সিরিঞ্জ দরকার প্রায় ২০ লাখ।

কর্মকর্তারা বলছেন, হাম-রুবেলার টিকার মজুদ শেষ হওয়ার পর নতুন টিকা এসেছে। তবে এই টিকা দেওয়ার জন্য দুই ধরনের সিরিঞ্জের প্রয়োজন হয়। ৫ মিলির সিরিঞ্জ দিয়ে টিকা মেশানো বা মিক্সিং করা হয়। আর ০ দশমিক ৫ মিলির সিরিঞ্জ দিয়ে টিকা দেওয়া হয়। টিকার একটি ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা থাকে। আর একটি ভায়াল মিক্সিংয়ের জন্য প্রয়োজন একটি ৫ মিলির সিরিঞ্জ। সে হিসেবে ২ কোটি ডোজ টিকা মিক্সিংয়ের জন্য দরকার ২০ লাখ সিরিঞ্জ।

নাম প্রকাশ না করে ইপিআইয়ের সদ্য সাবেক একজন উপ-পরিচালক গণমাধ্যমকে বলেন, এখন টিকা থাকলেও পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ নাই। তবে ২ কোটির মতো টিকার মজুত রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তিন চালানে কয়েক লাখ সিরিঞ্জি আসার কথা রয়েছে।

ইপিআইয়ের সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ বলেন, একটি ভায়ালের জন্য একটি মিক্সিং সিরিঞ্জের প্রয়োজন হয়। আমাদের কাছে যে পরিমাণ মিক্সিং সিরিঞ্জ আছে, তা দিয়ে ক্যাম্পেইন চালানো সম্ভব এবং টিকাদান কর্মসূচি চলছে। এ ছাড়া দ্রুত সিরিঞ্জ নিয়ে আসার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই ছয় জেলায় হাম বেশি ছড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে যে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সেটাই প্রাথমিক কারণ। দেশের ৫৬ জেলায় হাম ছড়িয়েছে। এটিকে ‘উদ্বেজনকও’ বলছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৯ শতাংশের বয়স ২ বছরের নিচে, ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম।

এদিকে বাংলাদেশের শিশুদের দুইবারে হামের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। একটি ৯ মাস বয়সে, আরেকটি ১৫ মাস বয়সে। তবে ৯ মাসের আগেই এবার অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হওয়ায় পরিবর্তে ৬ মাস বয়সি শিশুদেরও হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা কেনার পদ্ধতি নিয়ে ‘দ্বিধা-ধন্দের কারণে’ মজুদ শেষ হয়ে ‘নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে’ বলে অভিযোগ করছেন ইপিআই কর্মকর্তাদের কেউ কেউ।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ কেনায় ‘অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তের আবেদনও করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ সেই আবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছিল’ বলে অভিযোগ করেছেন।

ইপিআইয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, আমাদের দেশে ইপিআই বেশ সফলভাবে বহু বছর ধরে টিকাদান করে আসছে। তবে বিগত সরকারের (অন্তর্বর্তীকালীন) সময় টিকা কেনার পদ্ধতি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে এই নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল গ্রামে গ্রামে চাহিদা অনুসারে টিকা পাঠানো হয়। জেলা-উপজেলা মাধ্যম হয়ে ছয় মাস বা তিন মাসের করে টিকা পাঠানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এভাবে ঢাকা থেকে জেলা, উপজেলা হয়ে গ্রাম পর্যায়ে টিকা গেছে। কিন্তু সময়মতো টিকা না কেনায় বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু টিকা থাকলেও প্রধান মজুদ ভাণ্ডারে সংকট দেখা দিয়েছে।

ইপিআইয়ের সহকারী পরিচালক ডা. হাসানুল মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার জরুরিভাবে টিকাদান কর্মসূচির ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছে। তাই আমরা রাত-দিন মিলিয়ে কাজ করছি। অপারেশনাল সময় না থাকায় সরাসরি আমরা টিকা দান শুরু করেছি। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে যাতে না পড়তে হয়, এ জন্য বছরের সব টিকা এক সঙ্গে ক্রয় করার সিদ্ধান্ত আমরা সরকারের কাছে জানিয়েছি।

ইপিআইয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রাজীব বলেন, আমাদের টিকা কার্যক্রম চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকেই চলছে। শুরুতে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ এলাকায় টিকা দেওয়া হয়েছে। পরে ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনসহ চারটি সিটিতে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের একেবারে গ্রামীণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এই প্রোগ্রাম মে মাসের শুরুতে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রীর নির্দেশে এগিয়ে নিয়ে আমরা ক্যাম্পেইন শুরু করছি।

ইপিআইয়ের সরকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যেটির ফলে ইপিআইয়ের মজুদে থাকা টিকা শেষ হয়। বর্তমানে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা এসেছে, তবে সিরিঞ্জের কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে এসব দিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চালানো সম্ভব এবং টিকাদান চলছে।

তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে। তবে এমন পরিস্থিরি জন্য হুট করে চাইলেই সারা দেশে টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানো যায় না। পরিস্থিতি অনুসারে ‘অপারেশনাল টাইম’ লাগে দুই থেকে তিন মাস, যেটি ছাড়াই আমরা মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে কাজ করছি। তবে মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুসারে বাকি ‘লজিস্টিক’ নিয়ে কার্যক্রম করার জন্য অনেক জনবলের প্রয়োজন হয়।

সূত্র: বিডি নিউজ২৪.কম

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ