ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৩-০৪-২০২৬ ০৩:১৯:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৪-২০২৬ ০৩:১৯:৫১ অপরাহ্ন
হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ছবি: সংগৃহীত
দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভোর থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন।

সোমবার ভোররাত সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে এবং জরুরি বিভাগের প্রধান গেটে তালা দিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যায় পড়েন সাধারণ রোগীরা।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৬৫) বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় সিসিইউ-২ ইউনিটে ভর্তি হন। রাত দেড়টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর খবর পেয়ে রোগীর স্বজনরা ভিড় করে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে রোগীর স্বজনরা আব্দুস সামাদের মরদেহ নিয়ে বাড়িতে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় শহরের পাটুয়াপাড়া এলাকার বখতিয়ার খিলজির ছেলে নাহিদুর রহমানকে (৪০) আটক করা হয়েছে।

এই ঘটনার জের ধরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালে নিজেদের নিরাপত্তা ও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে জরুরি বিভাগের প্রধান গেটে তালা দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সকাল ১০টার দিকে গেটের তালা ভাঙা হয় এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়। 

দিনাজপুর কোতয়ালি থানার ওসি নূর নবী জানান, ঘটনার পর একজনকে আটক করে কোতয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যসহ কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম হাসপাতালে অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রথম থেকেই রোগীর অবস্থা ভালো ছিল না। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর রোগীর স্বজনরা আমাদের চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। অন্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশালীন আচরণ করেন। পরে পুলিশকে অবহিত করা হলে একজনকে আটক করে। হার্ট অ্যাটাকের রোগী ঝুঁকিতেই থাকে। প্রতিটি মৃত্যুই দুঃখজনক। তারপরও আমরা সর্বাধিক চেষ্টা করি। কিন্তু কিছুদিন ধরেই দেখছি, কোনও রোগী মারা গেলেই চিকিৎসকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘট শুরু করেন। হাসপাতালকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ