ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​আ. লীগের কার্যক্রম শুরু হলে রাজনীতিতে ‘সক্রিয়’ হবেন সাকিব

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৫:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৫:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন
​আ. লীগের কার্যক্রম শুরু হলে রাজনীতিতে ‘সক্রিয়’ হবেন সাকিব ​ফাইল ছবি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু হলে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

সাকিব ২০২৪ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে তিনি আর দেশে ফেরেননি।

সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান জানান, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার জন্য সময় অনেক থাকলেও ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সময় তুলনামূলকভাবে সীমিত। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যদিও আইনি জটিলতার কারণে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকলেও দেশের প্রতি তার আবেগ ও টান আগের মতোই রয়েছে। দেশে ফিরতে না পারায় তিনি হতাশ হলেও আশাবাদী যে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সমাধান হবে।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা সম্ভব। রাজনীতির জন্য ‘আমৃত্যু সময়’ রয়েছে, কিন্তু ক্রিকেট এমন একটি পেশা যেখানে বয়স ও সময় একটি বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার প্রধান মনোযোগ ক্রিকেটে এবং ব্যক্তিগতভাবে ক্যারিয়ার দীর্ঘ করার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ থাকায় তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং দলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে ভবিষ্যতে আবারও রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তিনি বিবেচনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনীতিকে মানুষের জন্য কাজ করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন এবং ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে জনসেবামূলক কাজ করতে চান।

সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফেরার প্রসঙ্গে বলেন, আইনি জটিলতাগুলো সমাধান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং সেগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ সমাধান হওয়া প্রয়োজন। বিচার প্রক্রিয়ায় দেরি হলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগাযোগ মূলত আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে চলছে। কখনো যোগাযোগ হচ্ছে, কখনো হচ্ছে না—এমন পরিস্থিতি রয়েছে। প্রশাসনিক সহযোগিতা থাকলে আইনি ও পেশাগত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান হতে পারত।

দেশের ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বন্ধ বা স্থগিত থাকায় খেলোয়াড়রা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্লাব ও বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে মাঠের ক্রিকেট ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই অবস্থার ভেতরে খেলোয়াড়রাই মূল ভুক্তভোগী এবং তাদের পেশাগত ও আর্থিক জীবনেও প্রভাব পড়ছে।

জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে না পারার বিষয়েও তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। সাকিব বলেন, বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারা খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে যারা ক্যারিয়ারের শেষ বা শুরুর পর্যায়ে থাকে।

তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন, ‘যেকোনো সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে, যেখানে সব পক্ষ সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবার সুযোগ পাচ্ছেন। বয়স বিবেচনায় ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন, তবে খেলার প্রতি তার আগ্রহ এখনো আগের মতোই অটুট রয়েছে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ