জনগণের টাকার কথা মাথায় রেখে খুব সতর্কভাবে প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিএনপি সরকারের প্রথম একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এজেন্ডায় ১৯টি প্রকল্প ছিল। প্রায় সব প্রকল্প আগের তৈরি। এগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে অনেক সমস্যা পাওয়া গেছে। অনেকগুলো প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না, সেটিও প্রশ্ন।
তিনি জানান, অনেক বিশ্লেষণ করতে হচ্ছে বলে এজেন্ডার ১৯টির মধ্যে ৭টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়েছে। জনগণের টাকার কথা মাথায় রেখে খুব সতর্কভাবে প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, অপ্রয়োজনীয় কি না এসব অনেক কিছু বিবেচনা করতে হচ্ছে। ৭টির মধ্যে দু-একটি বিবেচনার জন্য দেয়া হয়েছে এবং কয়েকটি পাস হয়েছে ।
অর্থমন্ত্রী জানান, যেসব প্রকল্প শেষ হয়েছে, সেগুলো তদন্ত করতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়েছে। সব প্রকল্প মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশ্লেষণের পর অনেক প্রকল্প বাদ যাবে। বিগত দিনের প্রকল্পগুলোর ক্লিনিং প্রসেস শেষ করে আগামী দিনে নতুন প্রকল্প আনা হবে। তিনি জানান, দলের নির্বাচনি ইশতেহার ধারণ করে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি যেন পূরণ করা যায়, সেভাবে এগোচ্ছে সরকার । নতুন প্রকল্প অনুমোদনের আগে নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হার বেহাল অবস্থায়, কোনো অর্থনৈতিক সমীক্ষা ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যেগুলোর ইনভেস্টমেন্টের কোনো রিটার্ন নেই। দলীয় কর্মীদের সুবিধা দিতেও অনেক প্রকল্প নেয়া হয়। তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি জনগণের অর্থ যেন জনসেবায় ব্যয় হয়, সে লক্ষ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি ১৩শ’র বেশি প্রকল্প পর্যালোচনা করবে। যেগুলোর যৌক্তিকতা আছে সেগুলো ভবিষ্যতে চলবে, আর যেগুলোর যৌক্তিকতা নেই সেগুলো বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন