ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ , ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​চার দশক পর বিশ্বকাপে ইরাক

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০১-০৪-২০২৬ ০১:৪৫:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৪-২০২৬ ০১:৪৫:৩১ অপরাহ্ন
​চার দশক পর বিশ্বকাপে ইরাক ​ছবি: সংগৃহীত
কেউ সিজদায় পড়ে মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে পানি। আনন্দাশ্রু! স্বপ্নের ঠিকানা খুঁজে পেয়ে এভাবেই আনন্দে আত্মহারা ইরাকের ফুটবলাররা। বাছাইপর্ব পেরিয়ে ৪৮তম এবং শেষ দল হিসেবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটালো ইরাক। ১৯৮৬ সালের পর এ প্রথম বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে ‘লায়ন্স অফ মেসোপটেমিয়া’দের।
 
আগে একবারই বিশ্বকাপ খেলতে পেরেছিল তারা, ১৯৮৬ আসরে মেক্সিকোয়। এবার সে মেক্সিকোতেই বাছাইয়ের শেষ ধাপ জিতে ৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরছে 'লায়ন্স অব মেসোপটেমিয়া' নামে খ্যাত দলটি।

মেক্সিকোর মন্তেরেইতে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালের ম্যাচটিতে দশম মিনিটে ইরাক এগিয়ে যায় আলি আল-মাহাদির গোলে। বলিভিয়া সমতায় ফেরে প্রথমার্ধেই। ৫৩তম মিনিটে আয়মেন হুসেইন আবার এগিয়ে দেন ইরাককে। সে গোলই শেষ পর্যন্ত দলকে নিয়ে যায় বিশ্ব আসরে।

ইরাককে দিয়ে চূড়ান্ত হলো এবারের বিশ্বকাপের ৪৮ দল। সেখানে এশিয়ার প্রতিনিধি থাকছে ৯টি। বিশ্বকাপে 'আই' গ্রুপে ইরাকের সঙ্গী ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে।

এ ম্যাচটি খুব আকর্ষণীয় কিছু নয়। ম্যাচ জিতলেও খুব চোখাধাঁধানো ফুটবল খেলতে পারেনি ইরাক। তবে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের মানসিকতা। প্রথম থেকেই ইরাকের ফুটবলারদের মনে হয়েছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, বলের প্রতিটি লড়াইয়ে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন তারা। এমনভাবে নিজেদের মেলে ধরছিলেন তারা, যেন প্রতিটি বলই তাদের শেষ সুযোগ। অসাধারণ ফুটবল না দেখিয়েও দৃঢ়তা, তাড়না এবং কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে এবং অল্প তৈরি করেই সেগুলোকে কাজে লাগিয়েছে।

লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে শেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে আন্তমহাদশীয় প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছিল বলিভিয়া। প্লে-অফ সেমি-ফাইনালে সুরিনামকে হারিয়ে শেষ ধাপে এলেও আসল ম্যাচটিতে তারা ছিলেন মলিন। ম্যাচজুড়ে খুব বেশি সুযোগ তারা তৈরি করতে পারেনি। শেষ দিকে কয়েকটি কর্নার আদায় করলেও বড় হুমকি গড়ে তুলতে পারেনি।

ম্যাচের পর ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডও প্রশংসা করলেন দলের মানসিকতার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অস্থিরতার সময়ে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেও দারুণ তৃপ্ত কোচ। ফুটবলারদের অবশ্যই অভিনন্দন জানাই, তারা সত্যিকারের ইরাকি মানসিকতা নিয়ে খেলেছে, লড়াই করেছে এবং জীবন বাজি রেখেছে। এ কারণেই আমরা ম্যাচটি জিতেছি। 

তিনি বলেন, বলিভিয়াকে পুরো কৃতিত্ব দিতেই হবে, কারণ তারা ভালো খেলেছে। আমাদের জয় সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র দুর্দান্ত রক্ষণভাগের কারণে, যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল, যেমনটা আমি আগেই বলেছি এবং আমরা ক্রসগুলোও খুব ভালোভাবে প্রতিহত করেছি।

ইরাকি কোচ আরও বলেন, আমি খুশি যে আমরা ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছি, বিশেষ করে এ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে তার পরিপ্রেক্ষিতে...।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ