দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলামাত্র উত্তপ্ত সংসদ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
৩০-০৩-২০২৬ ০৬:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩০-০৩-২০২৬ ০৮:৪১:৪২ অপরাহ্ন
সংসদে কথা বলছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সংগৃহীত ছবি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই।
তিনি বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই বলামাত্র উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন। এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকে একসঙ্গে কথা বলতে চাইলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন অধিবেশন পরিচালনা করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বেলা সাড়ে তিনটায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্থ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের সম্পূরক হিসেবে একটি প্রশ্ন করেন ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে দেওয়ার সময় অল্প সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন।
মীর আহমাদ বিন কাসেম জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলছে। ইতিমধ্যে সেখানে একাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ভেতরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সংসদ সদস্য প্রশ্ন করেন, ‘আমার প্রথম প্রশ্ন, জিয়াউর রহমানের সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সংকট নিরসনে কী ভূমিকা পালন করছেন? পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জাতিসংঘের প্রেসিডেন্সি পদে, সেখানে আমাদের এই জ্বালানি সংকটের ব্যাপারে উনি কী ভূমিকা পালন করছেন, আমরা সেটা জানি না।’
উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানির কোনো সংকট বর্তমানে বাংলাদেশে নেই।’ মন্ত্রীর এই কথার সঙ্গে সঙ্গে সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। সমস্বরে সংসদ সদস্যরা জ্বালানি সংকটের কথা বলতে থাকেন। এ সময় স্পিকার দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবারও বলতে থাকেন, জ্বালানির যাতে একাধিক সোর্স থেকে আমরা সরবরাহ করতে পারি। সে জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার আমাদের সঙ্গে বসেছেন; জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উনি বসেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও যে সব সোর্স থেকে জ্বালানি আনতে পারি সে ব্যাপারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং ইনশাল্লাহ আমরা সেটাতে সফল হবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসীদের।
তিনি সংসদকে জানান, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, অন্যদের উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘সরকারের সহায়তায় চার্টার্ড ফ্লাইটে ইরানের তেহরান থেকে মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে থাকা নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিশ্বের যেখানেই বাংলাদেশিরা থাকুক, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বহুমুখী উৎসের মাধ্যমে দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা।’
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, সরকার বৈশ্বিক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স